এর আগে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়চওনা গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে দুই সন্তানের জনক ব্যবসায়ী আবুল হাশেম লিটনের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মেয়েটির বাবা সখীপুর থানায় মামলা করেন। বর্তমানে মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও জানা গেছে। পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে মেয়েটিকে শনিবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
মামলা ও ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকালে ওই ছাত্রী প্রতিবেশী মতিয়ার রহমানের ছেলে ব্যবসায়ী আবুল হাশেম লিটনের (৪৫) বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মেয়েটিকে ঘরের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে লিটন। এ সময় লিটন মেয়েটির বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে। ভিডিওটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ বাবা-মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে লিটন মেয়েটিকে নিয়মিত ধর্ষণ করত। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
পাশবিক নির্যাতনের শিকার মেয়েটি জানায়, লিটন ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
মেয়েটির বাবা জানান, গত ২৩ আগস্ট স্থানীয় একটি ক্লিনিকে মেয়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। ওই প্রতিবেদনে মেয়েটি ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম জানান, লিটন পুলিশের কাছে ধরা না দিয়ে আজ সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, লিটনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, ধর্ষক লিটনের ফাঁসির দাবিতে সোমবার ওই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করবে বলে জানা গেছে। স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল হালিম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে উখিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী