শরীয়তপুরে বৈরি আবহাওয়ায় শুরু হয়নি উদ্ধার কাজশরীয়তপুরে বৈরি আবহাওয়ায় এখনও উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রচণ্ড বৃষ্টি আর তীব্র স্রোতের কারণে ডুবুরিরা নদীতে নামতে পারছেন না। এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মো. মোজাম্মল হক ও শরীয়তপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাহবুবা আক্তার ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মল চন্দ্র দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার তৎপরতা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘নিখোঁজদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে। আমরা পুর্নাঙ্গ তালিকা করার চেষ্টা করছি।’
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বৈরি আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে।’
ঘটনাস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারানিখোঁজ ১৫ জন হলেন নড়িয়ার গোয়ালবাথান গ্রামের আকবর সরদারের ছেলে ও নড়িয়া-২ লঞ্চের দোকানদার রবীন সরদার (২৫), বিঝারী ইউনিয়নের হারুন তালুকদারের ছেলে ও নড়িয়া-২ লঞ্চের মাস্টার সজল তালুকদার (৩৮), নড়িয়া-২ লঞ্চের খালাসি জয়, মিস্ত্রী সাদেক, মহানগর লঞ্চের চালক ফরিদপুর জেলার শাহ আলম (৩৫), লঞ্চের গ্রিজারম্যান চাঁদপুর জেলার সালাহউদ্দীন (৩০), মৌচাক-২ লঞ্চের দোকানদার লিটন শেখ (২৫), মৌচাক-২ লঞ্চের বাবুর্চি মানিক মাদবর (৩৪), মৌচাক-২ লঞ্চের কেবিন বয় বরিশালের বশির (২৯), মৌচাক-২ লঞ্চের সুকানি ভোলা জেলার রফিক (৫৫), মৌচাক-২ লঞ্চের মাস্টার চাঁদপুরের জাকির (৪৪), মৌচাক-২ লঞ্চের লস্কর পলাশ (২০), মৌচাক-২ লঞ্চের যাত্রী নড়িয়ার লোনসিং গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩৭), শাশুড়ি ফখরুন্নেছা (৫৫) এবং মোহাম্মদ আলীর পাঁচ দিনের নবজাতক শিশু।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নড়িয়ার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা এক সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় সেখানে ছয়টি লঞ্চ নোঙর করা ছিল। এর মধ্যে শরীয়তপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটের এমভি মহানগর ও নড়িয়া-২ লঞ্চটি সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যায়। পানির তোড়ে কাত হয়ে ভেসে যায় ঢাকা-শরীয়তপুর রুটের এমভি মৌচাক-২। এ ঘটনায় লঞ্চের স্টাফ ও যাত্রী মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
পদ্মায় আকস্মিক ভাঙনে নোঙর করা লঞ্চডুবি, নিখোঁজ অর্ধশত