শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নোঙ্গর করা অবস্থায় তিনটি লঞ্চ ডুবির পর ৩০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার কাজের দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি হয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নদীরপাড়ে এসে হাজির হয়েছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা। আহাজারির পাশাপাশি তিনটি লঞ্চের একটিও উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তারা।
নড়িয়া-২ লঞ্চের কেবিনে ছিলেন নারায়ণগঞ্জের কালীবাজারের স্বর্ণের দোকানদার রিপন দাস। তার আত্মীয় দিলীপ দে বলেন,‘একদিন পার হয়ে গেল, এখনও তিনটি লঞ্চের একটিও উদ্ধার করতে পারেনি। তারা আসলে আমাদের আই ওয়াশ করছে।’
মৌচাক-২ লঞ্চের বাবুর্চি মানিক মাদবরের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘গতকাল সকাল থেকেই মৌচাক-২ লঞ্চটি দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারলো না। একটা লঞ্চ ওঠানোর ক্ষমতা নাই তাদের, তাহলে কেন আসছে তারা?’
এদিকে সকালে সুরেশ্বর এলাকায় নদী থেকে একটি লাশ উদ্ধার হলে পুলিশ প্রথমে সেটি নড়িয়া-২ লঞ্চের কেরানি সজল তালুকদারের বলে নিশ্চিত করে। পরে তার স্বজনরা এসে লাশটি সজল তালুকদারের নয় বলে জানান। পরবর্তীতে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া লাশটি লঞ্চডুবির নয়। এটি খুলনার জনৈক সজল পালের লাশ।
উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় সোমবার দুপুর থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। তিনটি লঞ্চের মধ্যে সোমবার ঢাকা-শরীয়তপুর রুটের এমভি মৌচাক-২ লঞ্চটির সন্ধান পেলেও তীব্র স্রোতের কারণে লঞ্চটিকে আটকানো যায়নি। পরে রাত ১০ টায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করে বিআইডব্লিউটিএ। মঙ্গলবার সকাল ৮ টা থেকে পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনেও অগ্রগতি নেই।
উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ে থাকা বিআইডব্লিউটিএর উপ পরিচালক জহির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সাধ্য মতো চেষ্টা করছি। স্রোতের কারণে লঞ্চটিকে আটকাতে সমস্যা হচ্ছে। একবার আটকাতে পারলে আর সমস্যা হবে না।’
উল্লেখ্য সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নড়িয়ার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা এক সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় সেখানে ছয়টি লঞ্চ নোঙর করা ছিল। এর মধ্যে শরীয়তপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটের এমভি মহানগর ও নড়িয়া-২ লঞ্চটি সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যায়। পানির তোড়ে কাত হয়ে ভেসে যায় ঢাকা-শরীয়তপুর রুটের এমভি মৌচাক-২।
আরও পড়তে পারেন: মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী