ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীর দায়িত্ব নিলো উপজেলা প্রশাসন

গাজীপুরগাজীপুরের শ্রীপুরে ধর্ষণের শিকার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা মাদ্রাসা ছাত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার নির্যাতিতা ছাত্রীকে তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে এনে শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। অন্তঃসত্বা শিশুটি শ্রীপুরের একটি দাখিল মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এদিকে এ ঘটনায় গত ২২ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর থানায় মামলা হলেও অভিযুক্ত যুবককে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি শ্রীপুর থানা পুলিশ।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের মেয়ে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে সাইটালিয়া গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহ (২৩) প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। গত কয়েকমাস আগে মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে সাইটালিয়ার মোল্লা খালির টেক নামক স্থানে গভীর জঙ্গলে নিয়ে আমান তাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে। ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর আমান বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায়ই তাদের মেয়েকে ধর্ষণ করলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

ঘটনাটি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশ হলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার সোমবার ওই ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে তাকে শ্রীপুর উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীল সব ধরনের টেস্ট করার পর তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মইনুল হক খান জানান, মেয়েটি এখন অপুষ্টিতে ভুগছে। তার যথাযথ চিকিৎসা দরকার। উপজেলা হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার (ইউএনও) বলেন, ‘এখন থেকে তাকে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসহ সন্তান প্রসবের পর পুণর্বাসনেরর দায়িত্ব পালন করবে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন। প্রাথমিক অবস্থায় তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে শিশুটিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। সন্তান ভুমিষ্ট ও প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্বও উপজেলা প্রশাসনের থাকবে। আমরা মা ও মেয়ের উভয়ের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবো। ’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এখলাস উদ্দিন জানান, আসামি পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি। তবে ধর্ষক আমানকে গ্রেফতারের জন্য আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।