টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ১২১নং বাঁশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে তিনটি শ্রেণিকক্ষ পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এসে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানায়, জুলহাস নামে এই এলাকার এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ১৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে ৯ শতাংশ জায়গা নিজের বলে দাবি করে আসছেন। জমি সংক্রান্ত্র বিরোধের জের ধরে জুলহাস এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তাদের ধারণা।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আগুন দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসেনি। যারা এসেছিল তারা বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কান্নাকাটি করে বাড়িতে চলে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা খাতুন জানান, বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষই আগুনে পুড়ে গেছে। বিকল্প কোনও শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ৯ শতাংশ জায়গা একই এলাকার জুলহাস জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগেও সে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেছে। প্রায় চার বছর আগে তিনি বিদ্যালয় মাঠে জোরপূর্বক একটি ঘর উঠিয়েছিলেন। পরে এলাকাবাসী ঘরটি ভেঙে দিয়েছে। এ নিয়ে জুলহাস আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে বিদ্যালয়ের ক্ষতি করে আসছেন। এর জের ধরেই তিনি বিদ্যালয়ে আগুন দিয়েছেন। এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল হক জানান, বিদ্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ ধরণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়তে পারেন: শেরপুর সীমান্তে আবারও বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার