২৫ বছর বয়সী নয়ন জানান, তার জন্ম ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার বানারি গ্রামে। বাবা আব্দুল জলিল ছিলেন দিনমজুর। মা অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর ভিটেমাটি হারিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি শ্রীপুর পৌর এলাকার পিয়ার আলী কলেজের কাছে শাহিনের বাড়িতে বসবাস করেন। পাঁচ বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। হামিম নামে সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলেও রয়েছে তার।
ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়ার বিষয়ে নয়ন বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও বোনকে নিয়ে বিপদে পড়েছিলাম। কয়েকদিন না খেয়েও থাকতে হয়েছে। অন্যের বাড়িতে কাজের জন্য শ্রীপুরে এসেছিলাম। অন্ধ বলে কেউ কাজ দেয়নি। শুধু ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করি। কিন্তু হাতে সামান্য পুঁজি ও শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকা পরিচিত হওয়া মাত্রই ভিক্ষা ছেড়ে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেই। এখন শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকা আমার পরিচিত হয়ে গেছে। অন্যের সাহায্য ছাড়াই চলতে পারি। ব্যবসার আয় সামান্য হওয়া সত্ত্বেও আমি পুরো পরিবার নিয়ে সুখে আছি।’
নয়নের আশা ভবিষ্যতে যদি সামান্য ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা হতো তাহলে এ ব্যবসা ছেড়ে দোকান দিতেন। অনেকটা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে ব্যবসার জন্য বের হতে হয়।
মাওনা চৌরাস্তার ফল ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন নয়ন মিয়াকে দেখি ফেরি করে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করছে। তাকে দেখে অনেক সামর্থবান মানুষের মধ্যে পার্থক্য খুঁজি। তখন মানুষের বিবেকের পার্থক্যটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে।’
শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক জানান, সরকার ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নয়ন একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হতদরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। নয়নকে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন:
ইউনিলিভারের ‘হ্যান্ডওয়াশ প্রোগ্রামে’ অংশ নিয়ে অসুস্থ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী