শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ও এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে গ্রামীণ নারীদের মাঝে সচেতনা বাড়াতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিয়ারা ভবানীপুর গ্রামে শাকসবজি দিয়ে বিভিন্ন রান্নার এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। রবিবার স্থানীয় দিয়ারা নারী উন্নয়ন সংগঠন ও বেসরকারি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান বারসিক যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বেলা ১১টা থেকে প্রতিযোগিতায় শুরু হয়। এতে ২৩ জন নারী অংশ নেন। এসময় কলমি শাক, খারকুন পাতা, তেলাকুচপাতা, শাপলা, ডণ্ডকোলস, টেকা খায়কুন, পানা ফুল, পিপলপাতা, কচুপাতা, ন্যাটাপেটা শাক, সেচি শাক, কচুর লতি, লাউশাক, সোয়াচ পাতাসহ ২৩ পদের শাক রান্না করা হয়। পরে তা স্টলগুলোতে রাখা হয়। রবিবার বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
পরে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দিয়ারা নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি নূরুন্নাহারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, স্থানীয় জাগীর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শিউলি আক্তার স্কুলশিক্ষক শারমিন সুলতানা ও ঊষা সন্ন্যাসী, বারসিকের জেলা সমন্বয়ক কর্মকর্তা বিমল রায়, কর্মসূচি কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার, সংগঠনের সদস্য পারভীন বেগম, শিল্পী আক্তার ও আদরজান বেগম।
রাশেদা আক্তার বলেন, চাষ না করেই পতিত ও জলাবদ্ধ এলাকায় বিভিন্ন শাকসবজি ও লতাপাতা প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। কিন্তু গ্রামের অনেক নারীই এসব শাকসবজির গুণাগুণ সম্পর্কে জানেন না। এসব শাকসবজিতে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। অথচ না জানার কারণে তারা বাজার থেকে কীটনাশক ও সার দেওয়া শাকসবজি কেনেন। কীটনাশক ও সার দেওয়া শাকসবজি পুষ্টির চেয়ে মানবদেহের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে গ্রামের নারীদের অংশগ্রহণে খেলাধূলার আয়োজন করা হয়। তারা ভারসাম্য দৌঁড় (মাথায় থালা নিয়ে দৌঁড়) ও হাড়ি ভাঙার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। পুরো দিনটি তাদের উৎসব-আনন্দে কাটে।
আরও পাড়তে পারেন: ঝিনাইদহে বিআরটিএ’র দুই দালালের জেল-জরিমানা