শ্রীপুরে বানরের জন্য ১শ’ কলাগাছ রোপণ

জীববৈচিত্র রক্ষায় বানরকে খাবার দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যরা

গাজীপুরের ভাওয়ালের বরমী বাজারে থাকা বানরগুলোর জন্য সপ্তাহে দু’দিন খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বানরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ১শ’ কলাগাছও রোপণ করা হয়েছে। প্রাণী ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে সহায়তার অংশ হিসেবে শ্রীপুর উপজেলা ও বরমী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার।

বরমী বাজারের ‘ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ’ এর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মোড়ল বলেন, ‘বরমী বাজারে বানরের বসবাস অনেক আগে থেকেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বানরের খাদ্য সঙ্কট নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বানর দেখার জন্য পর্যটকরা এখানে আসেন। পর্যটকরা তখন বানরগুলোকে সামান্য খাবার দিয়ে যান। এতে বানরের খাবারের সমস্যার সমাধান হয় না। সঙ্কট থেকেই যায়। এ বাজারে দুই হাজারের বেশি বানর রয়েছে। খাদ্যের অভাবে অনেক বানর ব্যবসায়ীদের দোকানে হানা দেয়।

 জীববৈচিত্র রক্ষায় বানরকে খাবার দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যরা

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক বাদল সরকার বলেন, ‘বানরগুলো বরমী বাজারের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। খাদ্য সঙ্কটের কারণে বানরের বংশ বৃদ্ধি ক্রমশ লোপ পাচ্ছে। বানরের বাস অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য বাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে প্রায় এক হাজার কলাগাছ রোপণ করা হবে। মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে একশ’ গাছ রোপণের মাধ্যমে বানরের বসবাস অনুকূল পরিবেশে তৈরি কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বানরের খাবার সঙ্কট মোকাবেলার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে ৫টন জিআর (খয়রাতি সহায়তা) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে দু’দিন বরমী বাজারের তিনটি স্থানে বানরকে খাদ্য দেওয়া হবে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ। পর্যায়ক্রমে বানরগুলোকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হবে। জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় ও বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য তৈরি জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল রানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন, বরমী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার প্রমুখ।

/জেবি/