এসব মানববন্ধনে জানানো হয়, চাকরি নিয়মতকরণের দাবিতে জেলা পর্যায়ে গত ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে কর্মবিরতিতে ছিলেন শ্রমিকরা। আগামী ১৯ থেকে ২৩ নভেম্বর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি ও ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর ঢাকায় কাফনের কাপড় পরে প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করবেন তারা। এর আগে ১৪ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হবে স্মারকলিপি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত শ্রমিক কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে চাকরি স্থায়ী না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান বক্তারা। তাদের ভাষ্য, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগে সাত হাজার শূন্য পদ রয়েছে। এগুলোতে ওয়ার্কচার্জড কর্মচারীদের ও যাদের শূন্য পদে নেওয়া সম্ভব নয় তাদের কনভার্টেড পদে চাকরি দিয়ে নিয়মিতকরণের সুযোগ রয়েছে। আমাদের দাবির যৌক্তিকতা দেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে এর পক্ষে। কাজেই ৭ হাজার ৫৯ কর্মচারীর দাবি যৌক্তিক ও আইনগত অধিকার।’
বাংলা ট্রিবিউনের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি মতিউর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী দফতরের নির্দেশনা আর হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী শূন্য পদে ও কনভার্টেড হিসেবে চাকরি নিয়মিতকরণের দাবি জানিয়েছেন সওজ কর্মচারীরা। রবিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সড়ক ভবনের সামনে শহীদ সরণি সড়কে মানববন্ধন করেন ৮৮ জন ওয়ার্কচার্জড ও মাস্টার রোলভুক্ত ১৫ জন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সড়ক ও জনপথ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ সদস্য জহিরুল ইসলাম। এখানে আরও ছিলেন সংগঠনের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, সদস্য শাহাজান মিয়া, সাখায়াত হোসেন, আরিফুর রহমান, আব্দুল হক ও জাকির হোসেন।
রাজবাড়ীতেও মানববন্ধন হয়েছে সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে। বাংলা ট্রিবিউনের রাজবাড়ী প্রতিনিধি কাজী তানভীর মাহমুদ জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সামনে দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া সড়কে ঘণ্টব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ আয়োজনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন রাজবাড়ী জেলা সংসদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র চক্রবর্তী, সহ-সভাপতি রবিউল আলম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মোল্লা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নওশের আলী, প্রচার সম্পাদক শান্তনু কুমার স্যানাল, কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডল।
সাত দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাছাইকৃত ২ হাজার ৬৬৭ জন ওয়ার্কচার্জড কর্মচারীকে দ্রুত শূন্য পদে নিয়মিত ও বাকি ৪ হাজার ৩৯২ জন ওয়ার্কচার্জড কর্মচারীকে শর্ত শিথিলপূর্বক কনভার্টেড হিসেবে নিয়মিতকরনের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।