পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে অর্থ আদায়, নারীসহ গ্রেফতার ৭

পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের ঘটনায় নারীসহ গ্রেফতার ৭গাজীপুরে এক পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে আপত্তিকর ছবি তুলে পত্রিকায় প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ও হত্যার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী দুই নারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার বাড়াইপাড়া এলাকার সোলেমান গণির ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৪), শেরপুর সদরের সন্যাসীচর এলাকার ইসমাইল আলীর ছেলে আইয়ুব আলী (২৮), জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ঢালুয়া বাড়ি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এরশাদ আলী (২৮), একই থানার ঝাউপাড়া টোক্কারচর গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী রত্না বেগম (৪৫), টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার বলিভদ্র গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩০), বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের শাহ আলম সরকারের ছেলে শামীম হোসেন (৪৫) ও গাইবান্দা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া গ্রামের হামিদুলের মেয়ে রূপা বেগম (২০)।

এসপি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন ভোগড়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কনস্টেবল আমির হোসেনকে তার পূর্ব পরিচিত শ্যামলা নামের এক মহিলা বুধবার কৌশলে স্থানীয় কাজিম উদ্দিন স্কুল রোডে শাহ আলমের বাড়ির একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে সেই কক্ষে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া পরিচয়ে সোহেল এবং সাংবাদিক পরিচয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ ৫-৬ জন লোক প্রবেশ করে। এসময় তারা খুন জখমের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুলিশ কনস্টেবল ও রুপা নামের এক নারীর আপত্তিকর ছবি তোলে। পরে তারা আমির হোসেনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ৮০ হাজার টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে কনস্টেবল আমির তার পরিচিত জাকির হোসেনকে ঘটনা অবগত করে তাকে দুইটি বিকাশ নম্বর দেয়। জাকিরের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল আমিরকে উদ্ধার ও সাতজনকে আটক করা হয়।

এসপি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।