কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চত্বরের সামনে স্থাপিত একটি মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যে নারীর প্রতিকৃতি পুরুষে রূপান্তর করা হয়।
রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিকের সভাপত্বিতে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক দোলন, মানবাধিকার আইনজীবী পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী মাহবুব, নারী নেত্রী বিলকিস বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ দত্ত প্রদীপ, ছাত্রলীগ নেতা ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী রুবেল, নারী নেত্রী খুজিস্তা বেগম জোনাকীসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান অবদান আছে। ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আজকে আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। কিছু ধর্মান্ধ কিছু ব্যক্তির কারণে নারীকে খাটো করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ’
অবলিম্বে ভাস্কর্যে নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি পুনরায় স্থাপন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভাস্কর্যের কাজ চলছে। এ ভাস্কর্যে তিন জন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি ছিল। তার মধ্যে ছিল একজন নারী মুক্তিযোদ্ধাও। পুরো ভাস্কর্যটির কাজও শেষের দিকে ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটি মহলের চাপ ও নির্দেশে ওই নারী মুক্তিযোদ্ধার আকৃতি ভেঙে এখন সেখানে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি স্থাপনের কাজ চলছে।
তাড়াইল উপজেলা পরিষদের সামনে একটি খোলা জায়গায় ২০১৬ সালে ভাস্কর্যটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ ভাস্কর্যটির কাজ বাস্তবায়ন করছে। ভাস্কর সুষেন আচার্য ও শ্যামল আচার্য ভাস্কর্যটির কাজ করছেন।