কারাবন্দিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকারাগার থেকে বের হওয়ার পর যাতে কর্ম জীবনে যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেজন্য কারাবন্দিদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, ‘দেশের প্রত্যেকটি কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বন্দিরা যাতে ভবিষ্যতে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেজন্য তাদের বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে উদ্বোধন করা গার্মেন্টস বন্দিরাই চালাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কারাগারেও এ ধরনের সুবিধা সম্বলিত ইউনিট গড়ে তোলা হবে।’

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুর্নবাসনের জন্য নবনির্মিত গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি এবং জামদানি উৎপাদন কেন্দ্র ‘রিজিলিয়ান্স’ উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী এসময় আরও বলেন, ‘কারাবন্দিদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলাসহ বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। কারাবন্দিরা যাতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মনে না করে সেজন্য মোবাইল ফোনে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারাগারের ভেতরে মাদকসহ অবৈধ কোনও জিনিস যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য কারারক্ষীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও গেটে স্ক্যানার মেশিন বসানো হয়েছে।  তবে আমি অস্বীকার করি না এর ফাঁক-ফোকর দিয়ে দুই একটা জিনিস ঢুকছে না। তবে আমরা এ ব্যাপারে সর্তক রয়েছি। আইজি প্রিজন সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছেন।’নারায়ণগঞ্জে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে নারায়ণগঞ্জ ৫ সংসদ সদস্য এবং বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান এ সময় বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের সহায়তা করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংগ্রহ করে বায়ারদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেয়, তাহলে এখান থেকে তৈরি পোশাক বিদেশে রফতানি করে বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলার আয় করা সম্ভব। বিকেএমইএ এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

আইজি প্রিজন সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী বন্দিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। স্বল্পমেয়াদী বন্দিদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে এই কাজে লাগানো হবে। যাতে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে গিয়ে ওই কাজ করে পরবর্তী জীবন ভালোভাবে কাটাতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অনুযায়ী বন্দিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।  যে এলাকায় যে ধরনের কাজ হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে বন্দিরা বাইরে বের হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।’

আইজি প্রিজন জানান, জেলখানায় বন্দিদের উৎপাদিত পণ্যের প্রসারের জন্য এবার আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলায় একটি প্যাভিলিয়ন নেওয়া হয়েছে। এতে করে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়াবে।  তিনি বলেন, ‘বন্দিদের উৎপাদিত পণ্যে লাভের ৫০ শতাংশ বন্দিকে দেওয়া হবে।’

নারায়ণগঞ্জে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমোবাইল ফোনে বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পাইলট একটি সফটওয়ার চালু করা হয়েছে। ওই সফটওয়্যারের মধ্যে আগেরদিন বন্দির পরিবারকে ভয়েস মেসেস দেওয়া হবে। দুটি রেজিস্ট্রার্ড মোবাইল নম্বর থেকে তারা কথা বলতে পারবে। কথা বলার রেকর্ড থাকবে। বন্দিরা মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারবেন।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয়  সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীক, নজরুল ইসলাম বাবু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  

আরও পড়ুন- জামদানি উৎপাদন করবেন কারাবন্দিরা