কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য থেকে নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি ভেঙে পুরুষের প্রতিকৃতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। মহিলা পরিষদসহ স্থানীয়দের দাবির মুখে ভাস্কর্যটিতে আবারও নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি যুক্ত করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে শুরুতে ভাস্কর্যটি ছিল উত্তরমুখী। এখন সেটা দক্ষিণমুখী করে তৈরি করা হবে।
ভাস্কর সুষেন আচার্যকে এ বিষয়ে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে জেলা পরিষদ। নকশা অনুযায়ী ভাস্কর্যটিতে আগের মতোই তিন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে একজন নারীকে বিজয়ের পতাকা হাতে দেখা যাবে ।
ভাস্কর সুষেন আচার্য জানান, মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) জেলা পরিষদ থেকে প্রকৌশলীসহ স্থানীয় নেতারা ভাস্কর্যটি পরিদর্শন করেন। এরপর তারা আবারও নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি স্থাপনের মৌখিক সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন। তবে লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার পর নতুন করে ভাঙাগড়ার কাজ শুরু হবে। বার বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান।
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, ‘জেলা পরিষদ ডিজাইন পরিবর্তন করে ভাস্কর্যের কাজ করতে শিল্পীকে কখনও চিঠি বা নির্দেশ দেয়নি। সিদ্ধান্তটি স্থানীয়ভাবে এসেছিল। আমরা পুনরায় শিল্পীকে নকশা অনুযায়ী ভাস্কর্যটি আগের মতো সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি। ভাস্কর্যটি উত্তর দিকে মুখ করে নির্মাণ করা হলেও সবদিক বিবেচনায় এখন এটিকে দক্ষিণ দিকে ঘুরিয়ে স্থাপন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভাস্কর্যটি অন্যদিকে মুখ করে স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের আগেই এসব বুঝেশুনে করা দরকার ছিল। তারপরও আমরা খুশি।’
তাড়াইল উপজেলা পরিষদের সামনে একটি খোলা জায়গায় ২০১৬ সালে ভাস্কর্যটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। ভাস্কর সুষেন আচার্য ও শ্যামল আচার্য ভাস্কর্যটি তৈরির কাজ করছেন।