আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংসদকে সংবর্ধনা দেওয়া জন্য স্কুল শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পৌঁনে চারটা পর্যন্ত পাঁচশ শিক্ষর্থীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা শীহদ ভুইয়ার নির্দেশে এ কাজ করা হয়েছে স্বীকার করে আওয়ামী লীগের একাধীক নেতাকর্মী জানান, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ও স্থানীয় সাংসদ ডা. এনামুর রহমানের আগমন উপলক্ষে দুপুর ২ টার পর থেকে আশপাশের ৫টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
আলফা মডেল স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মো. জাকারিয়া, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মায়া আক্তার ও নবম শ্রেণীর ছাত্রী মনি আক্তার বলে, ‘প্রধান শিক্ষক রমজান আলীর নির্দেশে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছে।’
জামগড়া সবুজ সেনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী শাকিলা আক্তার, আলফা মডেল স্কুলের নার্সারির ছাত্রী সুবর্ণা, ২য় শ্রেণির ছাত্রী মিমসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তারা দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে। এখন তাদের পা ব্যাথা করছে ও ক্লান্ত লাগছে।
একই অভিযোগ জামগড়া সবুজ সেনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী শাকিলা আক্তারসহ শাহিন স্কুল, ঢাকা আইডিয়াল স্কুল, চাইল্ড হ্যাভেন একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও।
আলফা মডেল স্কুলের শিক্ষক রোজিনা আক্তার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদ ভুইয়া তার নির্দেশে শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখার কথা অস্বীকার করে বলেন,‘ আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।’
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল বলেন, ‘দলীয় কোনও অনুষ্ঠানের জন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা সম্পূর্ণ নিষেধ। এরপরও কেউ এ কাজ করে থাকলে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে উদ্বোধন শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করায় ক্ষিপ্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, ‘আসারের নামাজের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাবেশের আয়োজন করায় মুসুল্লিদের আজ বাড়িতে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা চাইলেই আশপাশের কোনও স্কুলের সামনের খালি জায়গায় সমাবেশের আয়োজন করতে পারতো।’
আরও পড়ুন: কারাগারে প্রথম পোশাক কারখানা যেভাবে পরিচালিত হবে