শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শুক্রবার (০৫ জানুয়ারি) বিকালে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। তারা অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির ওই অভিভাবক সদস্যকে কমিটি থেকে বহিষ্কার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসময় পুরো এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রলীগ নেতা মাইকেল বাবু, শ্রমিকলীগ নেতা ডিউক সাউদ, ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সম্রাট, আনসার আলী, হৃদয় ও নাঈম।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নুরে ওসমানী ক্লাস রুমে প্রবেশ করে বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক মো. শাহ আলম ভুইয়াকে গালিগালাজ ও অপমান অপদস্ত করেন। ধমক দিয়ে তাকে ক্লাসরুম থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অন্যান্য শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর অপমানের শিকার ওই শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটিকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান এবং বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পরও প্রশাসন বা স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
শুক্রবার (০৫ জানুয়ারি) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা চলছিল।
লাঞ্ছিত শিক্ষকের স্ত্রী সেলিনা আফরোজ বলেন, ‘যারা আমার স্বামীকে শিক্ষার্থীদের সামনে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
লাঞ্চনার শিকার শিক্ষকের ছেলে সাফাতুল ইসলাম ভুইয়া হৃদয় তার বাবার লাঞ্চনাকারীদের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ গনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মঈনুল হাসান বাপ্পি বলেন, ‘শিক্ষক অপমানের ঘটনাটি আমাকে আগে জানানো হয়নি। এখন জেনেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উভয় পক্ষকে নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানেরও চেষ্টা চলছে।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরে ওসমানী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় শাহ আলম স্যারের সঙ্গে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে খারাপ আচরণ করেছি। এটা করা আমার ঠিক হয়নি। আমি ভুল করেছি।’