গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় শতাধিক বিল, বাঁওড় ও অসংখ্য জলাশয়। এর মধ্যে দুইটি বড় বিল হচ্ছে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল ও কোটালীপাড়া উপজেলার বাঘিয়ার বিল। বিল ও বাঁওড় এলাকায় রয়েছে শত শত পাখি শিকারি।
এলাকাবাসী ও পাখি শিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বালিহাঁস, কালকুচ, চেগা, ভিলভিলি, ঢুংখোর, বক, শামুক খোলাসহ বিভিন্ন জাতের পাখি শিকার হয়ে থাকে। এসব পাখি জেলার সদর উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলার সাতপাড় বাজার, বৌলতলী বাজার, বলাকইড় বাজার, সিংগা বাজার, হাতিয়াড়া বাজার, রাহুথর বাজার, উজানী বাজারসহ অন্তত ১৫টি স্থানে ও কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নিতাই বাজার, কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের তারাইল বাজার, বরইভিটা বাজার, কলাবাড়ি ইউনিয়নের রামনগর বাজারসহ অন্তত ১২টি স্থানে এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তাড়াইল বাজার, জামাই বাজার, বাঁশ বাড়িয়া বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে পাখি বিক্রি হয়ে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতপাড় বাজারের এক পাখি শিকারি বলেন, ‘পেটের দায়ে আমরা ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে রাত জেগে বিল-পাথারে পাখি ধরি। সে পাখি আবার মানুষের কাছে বেচা-বিক্রি করে সংসার চালাই।’
গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘পশু-পাখি সংরক্ষণ আমাদের কাজ। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে পাখি বিক্রি হয় শুনেছি। কিন্তু, লোকবল সংকটের কারণে বের হতে পারিনি। তারপরও ভেবেছি পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গোপালগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে আইন রয়েছে। তারপরও এসব ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন একটু সজাগ দৃষ্টি দিলে এই অবৈধ কাজ বন্ধ করা সম্ভব।’
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘এরকম কথা শুনেছি। ইতোমধ্যে জেলার পাঁচ থানার ওসিদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন বিলে পাখি শিকার এবং সেগুলো হাট-বাজারে গোপনে বিক্রি হয় এমন খবর আমি পেয়েছি। ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’