আহতরা হলেন- জেলা বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক নাহীন আহমেদ মমতাজী (৪৫), শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোল্লা (৪০),গাজীপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, গাজীপুর জেলা ছাত্রদল কর্মী ফারুক আহমদ (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), ও কবির (২৮)।
এ সময় পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক কর্মীকে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন, গাজীপুর সদর থানা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক পূবাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক গাজী সুলতান শাহজাহান জুয়েল, ছাত্রদল কর্মী ফারুক (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), কবির হোসেন (২৮) ও দীপু (২৫)।
গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাজহারুল আলম জানান, গাজীপুর জেলা শহরের মধ্য ছায়াবিথী ট্রাস্ট কমিউনিটি সেন্টারে রবিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে জেলা বিএনপির যৌথ কর্মিসভা শুরু হয়। এতে গাজীপুরের জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. জয়নুল আবেদীন ফারুক। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. সাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মাজহারুল আলমসহ অনেকে।
নেতাকর্মীরা জানান, অনুষ্ঠান চলাকালেই পুলিশ পুরো কমিউনিটি সেন্টারটি ঘিরে ফেলে। পরে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে দুপুর ১ টার দিকে প্রধান ফটক দিয়ে নেতাকর্মীরা কমিউনিটি সেন্টার থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ আচমকা তাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
বিএনপি নেতারা জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্ভাব্য রায় দেওয়াকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীরা সংগঠিত হচ্ছিল। তখন দলীয় নেতাকর্মীদের একতা বৃদ্ধি ও চাঙ্গা হওয়াকে দাবিয়ে রাখতে পুলিশ এই হামলা করে থাকতে পারে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) রাসেল শেখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি কোনও অনুমোদন ছাড়াই ওই কর্মিসভা আয়োজন করে। সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দালের জেরে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেখানে যায় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়।’
পুলিশের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনও কোন্দল সৃষ্টি হয়নি। এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ তাদের ন্যাক্কারজনক ঘটনা আড়াল করতেই এমন বক্তব্য দিচ্ছে।’