এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়,কিছুদিন ধরে রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভিংরাবো ও সাহাপুর এলাকায় কৃষিজমি জোর করে বালু ভরাট করছে প্রাইম রিভারভিউ নামে একটি আবাসিক কোম্পানি। ওই আবাসন কোম্পানির পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে হোসেন মিয়া কৃষকদের জমি ভয়ভীতি দেখিয়ে বালু ভরাটের কাজ করছিলেন।
তাদের অভিযোগ, পুলিশের সহায়তায় জমিতে বালু ভরাটের কাজ চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় শতাধিক কৃষক রূপগঞ্জ ইউএনও কর্মকর্তা আবুল ফতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে ওই দিন রাত ১০টার দিকে হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী অস্ত্রসশস্ত্র নিয়ে ভিংরাবো গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় তারা কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে তারা কৃষক আব্দুল হান্নান, মোতালেব হোসেন ও খলিল নামে তিন জনকে কুপিয়ে জখম করে। এদের মধ্যে হান্নানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে কৃষক সিদ্দিক হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করলেও পুলিশ অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হোসেন মিয়া বলেন, ‘কোম্পানির কেনা জায়গায় বালু ভরাট করছি। আমরা কোনও হামলা চালায়নি। যারা অভিযোগ করছে, তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ইসমাঈল হোসেন বলেন,‘সংঘর্ষের ঘটনার অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগ পেলে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকের জমি না কিনে অবৈধভাবে বালু ভরাটের অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধভাবে বালু ভরাটের সত্যতা পেয়ে ড্রেজার খুলে নেওয়ার নির্দেশ এবং তাৎক্ষণিক বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেই। পরে অভিযুক্ত হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সে ওইখানে অবৈধভাবে বালু ভরাট যাতে না করে তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেই এবং উপজেলা পরিষদে দেখা করার জন্য নির্দেশনা দেই। শুনেছি ওই ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা কৃষকদের বাড়িতে হামলা ও মারধর করেছে। বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযুক্ত হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’