পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সকাল ১১টার দিকে রূপগঞ্জের কাঞ্চন সেতুর পশ্চিমপাশে ৩০০ ফিট রাস্তার এক পাশে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীকের সমর্থক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং রাস্তার আরেক পাশে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের সমর্থকরা অবস্থান নেয়। এ সময় তারা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে দু’পক্ষের নেতাকর্মীরাই লাঠিসোঠা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, শটগানের গুলি ছুড়ে দুইপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে দু’পক্ষের অভ্যন্তরীণ গোলাগুলিতে সুমন মিয়া (৩০) নামে এক যু্বলীগ কর্মী নিহত হয়। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলায় পুলিশের ১৫ সদস্য আহত হয়।
এ ঘটনায় হরিপদ মল্লিক, ধীরেন, আজিবুর রহমান, মামুন, বাচ্চু, সজিব, মানিক, মিলন, ফোরকান, রাজিব, নাবিল, নাজমুল, দ্বীন ইসলাম, কবির হোসেন, আনোয়ার, মামুন, মমিন, ফাহিম, শান্তি, নিরব, আল-আমিন, দবির, জয়নাল, হাকিম, মোফাজ্জেল ভুইয়া, হৃদয়, রোকন, সোহাগ মিয়া, ইছহাক, সাইফুলসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামিরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে দলীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশের কাজে বাধাদান, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত দুই হাজার বিক্ষোভকারী ও হামলাকারীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার ৩৮ জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জে যুবলীগ কর্মী নিহতের ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা