নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অবৈধভাবে জেটি স্থাপন করায় সিনহা টেক্সটাইলের মালিকপক্ষকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে একটি দল সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় শীতলক্ষ্যার উভয় তীর থেকে (কাঁচপুর ও শিমরাইল মৌজা) একটি ড্রেজার মেশিন, ১২টি বাঁশের তৈরি জেটি ও একটি সেমি পাকা ভবনসহ অন্তত ২৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সোমবার ছিল (১২ ফেব্রুয়ারি) উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. গুলজার আলী, উপ-পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক পারভেজ আহাম্মেদ, শাহ আলম, রেজাউল করিম লিটন প্রমুখ। এছাড়াও উচ্ছেদ অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ’র জাহাজ অগ্রণী, একটি এক্সাভেটর (ভেকু), একটি টাগবোটসহ বিপুল সংখ্যক উচ্ছেদ কর্মী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ জানান, কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে সিনহা টেক্সটাইল অবৈধভাবে একটি জেটি স্থাপন করেছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই জেটির জন্য সিনহার মালিকপক্ষকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া হারুন ব্রাদার্সর ১টি ভাসমান ড্রেজার, ১২টি জেটি ও একটি সেমি পাকা ভবনসহ সর্বমোট ২৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য এর আগে রবিবার কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীর থেকে অবৈধভাবে স্থাপন করা ৩টি ড্রেজার মেশিন, ড্রেজারের ৩০০ ফুট পাইপ, ১০টি বাঁশের জেটি ও ১০টি বালু পাথরের গদি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। যার বেশির ভাগেরই মালিক ছিল আলোচিত সাত খুনের মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ছোট ভাই নুরুজ্জামান জজ ও তার সহযোগীদের।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, দখলদাররা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে। শিগগিরই শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর যে সব স্থানে নদী অবৈধ দখল হয়েছে সে গুলোতে অভিযান পরিচালিত হবে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে হায়দার কাজী জুট মিলে অগ্নিকাণ্ড, চারটি গুদাম পুড়ে ছাই