রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ডা. মইনুল খান কয়েকজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছবিটি পোস্ট করেন এবং একই সঙ্গে তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘অবশেষে সব প্রতিকূলতাকে দূরে ঠেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সম্পূর্ণ ফ্রিতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মাকে সুস্থ রেখে, একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশুর ডেলিভারি করাতে পারলাম।’
পরে সেখান থেকে ক্রিনশট নিয়ে সুদীপ্ত সালাম নামে আরেক ব্যক্তি তার ফেসবুক ওয়ালে ডা. মইনুলের সমালোচনা করে পোস্টটি শেয়ার করেন।
এরপর ফেসবুকে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। এই ঘটনাকে চিকিৎসা ও মানবিক নীতি- নৈতিকতা বর্জিত বলে দাবি করেছেন মন্তব্যকারীরা। আবার অনেকে এই ঘটনাকে সরকারি হাসপাতালের সফলতা বলে ইতিবাচক মন্তব্যও করেছেন।
এদিকে, সুদীপ্ত সালামের ওয়ালে প্রকাশ হওয়া ওই পোস্ট নিয়ে নানা মন্তব্যের পর মইনুল হক খান তার পেজ থেকে পোস্টটি প্রত্যাহার করে নেন।
কিন্তু এরপরও ফেসবুকে মন্তব্য থেমে নেই। মুশফিক ওয়াদুদ নামে এক ব্যক্তি তার কমেন্টে লিখেছেন ‘কমন সেন্স নেই।’
মোহাম্মদ ইমাম হাসান নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই, আমি এখানে সমস্যার কিছু দেখছি না... রোগীর মুখ দেখা যাচ্ছে না... রোগী নিরাপদ থাকলে, ছবি তুলতে সমস্যা কোথায়? আপনি কি জানেন, সার্জন যাতে রিলাক্স থাকেন, সেজন্য ওটিতে গান চলে বা টিভিও থাকে। আর এখানে লাইসেন্স বাতিলের প্রশ্ন আসছে কেন?’
শামসুল আলম লিখেছেন, ‘দেখে বোঝা যায়, এটি অপারেশনের শেষে অন্য কারও হাতে তোলা ছবি । এর জন্য লাইসেন্স বাতিল কেন করতে হবে? কোন কিতাবে এ লাইসেন্স বাতিল আইন লেখা আছে?’
রিপা মাহমুদ লিখেছেন ‘মগের মুল্লুক যেন এ দেশটা! যার যা ইচ্ছে করে যাচ্ছে!’
এদিকে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, এ ছবিটি প্রচারের ব্যাপারে তাদের কিছুই জানা নেই। যদি ছবি পোস্ট করার মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা লজ্জাজনক বলে দাবি করেন রোগী এবং তার স্বজনেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অপারেশনের পর বর্তমানে নবজাতক ও মা সুস্থ রয়েছেন।
এ ব্যাপারে চিকিৎসক মইনুল হক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ইতিবাচক চিন্তা থেকে পোস্টটি দিয়েছিলাম। অপারেশনের সংবাদ শুনে অনেকে সরকারি সুবিধায় সেবা নিতে আসবে, এমনটাই ভাবনা ছিল আমার। এ বিষয়ে যে পোস্ট দেওয়া যাবে না, এমনটি জানা ছিল না। পরে সহকর্মী চিকিৎসকদের কাছ থেকে জেনে এবং পরামর্শে পোস্টটি মুছে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন সৈয়দ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে চিকিৎসক যদি এমনটি করে থাকেন এবং দৃশ্যে রোগীকে দেখা না যায়, তার পরিচিতি প্রকাশ না পায়, সে ক্ষেত্রে তিনি হয়তো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এটি দিয়েছেন বলে আমি মনে করছি।’
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘একটি উপজেলায় একটি সিজারিয়ান হলে ১০০ পয়েন্ট ধরা হয়।
র্যাংকিংয়ের দিক থেকে শ্রীপুর পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বহুল প্রচারের জন্য তিনি হয়তো এটি করেছেন। তবে অবশ্যই রোগীর অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে।’