মাদারীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন—কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা, এসআই হারুন-অর-রশীদ, খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি ইনস্পেক্টর মহিদুল ইসলাম, এসআই বিল্লাল শিকদার, এএসআই রাজিবুল ও তাদের সহযোগী হিসেবে রশিদ মুন্সী, বাঁশগাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমন ব্যাপারী ও রাজন ব্যাপারী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপি সদস্য খবির মৃধার সঙ্গে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমন ব্যাপারীর দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব ছিল। এরই জের ধরে খবির মৃধার ভাই পান ব্যবসায়ী কবির মৃধাকে লঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়ে তার দুই চোখ তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন খবির মৃধা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া ছাড়াও মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপরও বাদীপক্ষ মামলা তুলে নেয়নি। তবে, ওই মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমন ব্যাপারীর নাম বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দেন বাদী। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইউপি চেয়ারম্যান। এরপর এই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি কবির মৃধার মামাতো ভাই জহিরুল ইসলামকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার দুই চোখ উপড়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরপর দুই জনের চোখ উপড়ে ফেলার পরও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে সুমন ব্যাপারী ও তাদের লোকদের বিরুদ্ধে অভিযান না চালিয়ে গত ৩ মার্চ রাতে খুনের চর এলাকা থেকে দু’চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খবির মৃধা, বাদল মৃধা, আব্দুল মৃধা, জসিম মৃধা, মিন্টু সরদার, মান্নান খান, আমিনুল মৃধা, খালেক সরদার ও রুহুল আমিনকে আটক করে। পরে এই নয়জনকে খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে হাত-পা-চোখ বেঁধে লোহার রড, বেতের লাঠি ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে মারধর করে। পরের দিন তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় কালকিনি থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে ভর্তি করা হয়। গ্রেফতারের পর দু’দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী নূরু মৃধা বলেন, ‘স্থানীয় বিরোধের জের ধরে সুমন চেয়ারম্যান আমার ছেলে কবিরের দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে। এ ঘটনায় করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ওসি কৃপা সিন্ধু বালাসহ পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর জের ধরেই পুলিশ আমার ছেলে ইউপি মেম্বার খবির মৃধাসহ নয়জনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছে।’
জানতে চাইলে বাদী পক্ষের আইনজীবী মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবাইদুর রহমান খান বলেন, ‘‘পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আটকে রেখে ৯ জনকে মারধরের ঘটনায় ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন-২০১৩’-এর ১৫ (১)সহ দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/ ৪৪৮/ ৩২৫/ ৩০৭/ ৩২৬/ ৫০৬/১১৪/ ৩৪ ধারায় মামলার আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য রেখেছেন।’’
এই বিষয়ে মাদারীপুর চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি আইনজীবী (পিপি) এমরান লতিফ বলেন, ‘খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আটকে রেখে ৯ জনকে মারধরের ঘটনায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন মামলা গ্রহণ করেছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে শুনেছি। তবে আদালত মামলা গ্রহণ করেছেন কিনা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করা হয়েছে, তা এখনও জানি না। মামলার কাগজপত্র পেলে বিস্তারিত বলতে পারবো।’