দুই ভাই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৭১ সালের রক্তঝরা দিনগুলিতে জামালপুর শহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তাদের দোসর আল-বদর, রাজাকার ও আল-শামস্ বাহিনী মুক্তিকামী শত শত মানুষকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। পিছিয়ে ছিল না শান্তি বাহিনীও। তাদের নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে। জামালপুর শহরে মুক্তিকামী মানুষদের নির্যাতন করার জন্য আলবদর ও রাজাকারদের ছিল দুইটি টর্চার সেল। একটি বর্তমান সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ডিগ্রি হোস্টেল এবং অপরটি শহরের মেডিক্যাল রোডের সাধনা ঔষধালয় ভবন। এই ভবনটি শান্তি কমিটির অফিস হিসেবেও ব্যবহার হতো। এই অফিসের পেছনের একটি কক্ষে চলতো পাশবিক নির্যাতন। এছাড়া বর্তমান পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন পুরাতন ওয়াপদা ভবনটি ছিল পাক হানাদার বাহিনীর কার্যালয় ও বাসস্থান। পাশে বর্তমান কর্মচারীদের কোয়ার্টারগুলো ছিল তাদের টর্চার সেল। এছাড়া শহরে ছিল দুইটি বধ্যভূমি। একটি বর্তমানে ফৌতি গোরস্থান এবং অপরটি বানিয়া বাজারের ব্রম্মপুত্র নদের তীরবর্তী মহাশ্মশান ঘাট। টর্চার সেলে দুই/ তিন দিন শারীরিক নির্যাতনের পর এই বধ্যভূমিতে তাদের রাতের আঁধারে গলা কেটে এবং গুলি করে হত্যা করা হতো। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ডিগ্রি হোস্টেলটি এখনো পরিত্যক্ত আছে। সেখানে এখন গরুর গোয়াল।’
তারা জানান, ওইসব আলবদর ও রাজাকাররা হলো শহরের ইকবালপুরের বদর কমান্ডার বাহিনীর প্রধান আশরাফ, তার সহকারী কাচারীপাড়ার মান্নান, হান্নান, ইকবালপুরের খলিল, শহরের বকুলতলার জাকারিয়া ও কলেজ রোডের সামাদ।
মো. সিদ্দিক মিয়া ও তার বড় ভাই আয়নাল হক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী ছিলেন।