ঢাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ি শাখাটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা পার করে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ অফিসের সেবার মান বেশ সন্তোসজন বলে জানিয়েছে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। গত ছয় মাসে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের আবেদন করা তালিকা ও পাসপোর্ট বিতরণের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা।
গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান বছরের ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের আবেদনের সংখ্যা ৪১,০৩৩টি এবং এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৩২,৩৬৬টি। আর প্রিন্টিংয়ে আছে ৭৫২০টি। যা দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের হাতে পৌঁছে যাবে। নতুন পরিবেশে ও ফাঁকা জায়গায় পাসপোর্ট অফিসটি স্থাপিত হওয়ার কারণে কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। তারপরও এই অফিসে আসা পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের তেমন কোনও অভিযোগ নেই। অনেকেই নতুন অফিসের পরিবেশ, যাতায়াত ব্যবস্থা ও অফিসের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিন গিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া যায়। রাজধানীর বাসাবো থেকে আসা মো. শাহজাহান এবং আরসিনগেট এলাকা থেকে আসা ইমরান হোসেন জানান, অফিসে জনবল আরও বৃদ্ধি করলে, সেবার মান আরও ভালো হবে। পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ি শাখাটি কেরানিগঞ্জে স্থানান্তরের পর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। এরে আগে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের চাপ কমানোর জন্য ২০১০ সালে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে একটি ভাড়া বাসায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ি চালু করা হয়। যা গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ছিল। যাত্রাবাড়ির যে স্থানে পাসপোর্ট অফিসটি ছিল। ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে সেখানে যানজট লেগেই থাকতো। তাই পাসপোর্ট প্রত্যাশী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যাতায়াতে খুব অসুবিধ হতো। এছাড়াও একটু বৃষ্টি হলেই অফিসের সামনে হাঁটু পানি জমে যেত। এ কারণে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারীসহ পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এসব সমস্যা এড়াতে ও পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ঢাকা-মাওয়া সংযোগ সড়কের পাশে নিজস্ব জায়গায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করে পাসপোর্ট অফিসটি স্থানান্তরিত করে।
বর্তমানে একটু ফাঁকা জায়গায় অফিসটি স্থাপিত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো। অফিসটির পঞ্চম এবং চতুর্থ তলায় প্রশাসনিক কাজ করা হয়। তৃতীয় তলায় পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের আবেদন পত্র জমা নেওয়ার পর তাদের ছবি তোলাসহ যাবতীয় কাজ করা হয়। নতুন অফিসের জনবল ২৫ জন। তাদের মধ্যে পাসপোর্ট অধিদফতরের ১৪ জন, আউট সোর্সিংয়ের ৬ জন এবং নিরপত্তাকর্মী ও আনসার বাহিনীর সদস্য ৪ জন। এছাড়া একটু ফাঁকা জায়গায় অফিস স্থাপিত হওয়ায় সার্বক্ষণিকভাবে ৬ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে রয়েছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার, কদমতলী, যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, শাজাহানপুর, ওয়ারি, কোতোয়ালী ও সুত্রাপুরসহ ১৩টি থানার বাসিন্দারা এই অফিসে পাসপোর্ট করাতে পারবেন। তবে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বাসিন্দারা এই পাসপোর্ট অফিসের আওতাভুক্ত না হওয়ায় তাদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এই অফিসের আওতাভুক্ত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোড় দাবি জানিয়েছে। এদিকে খিলগাঁও, সবুজবাগ, শাজাহানপুর থানা, আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে এবং কেরানিগঞ্জ মডেল থানা, রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানা ও বংশাল থানাকে কেরানিগঞ্জ নতুন পাসপোর্ট অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।
এ ব্যাপারে নতুন এই পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমরা নিজস্ব ভবনে এসে যত দ্রুত সম্ভব সেবা দিয়ে যাচ্ছি। লোকজন যাতে দ্রুত ফর্ম হাতে পায় ও পূরণ করতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সার্ভারের ত্রুটিজনিত কারণে রি-ইস্যু করা পাসপোর্টের কাজ করতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। অফিসটি ফাঁকা জায়গায় অবস্থিত হওয়ায় আশপাশে কোনও ব্যাংক ও ফটোকপির দোকান নেই। যে কারণে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুত বিভ্রাটের কারণে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজের অনেক ব্যাঘাত ঘটছে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের সেবা আরও দ্রুতগতিতে করা যেত। সম্পূর্ণ দালালমুক্ত পরিবেশে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা তাদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করতে পারেন।
আরও পড়ুন: মোংলা বন্দরে নির্মাণ হচ্ছে অত্যাধুনিক সিকিউরিটি গেট