দিবসটি উপলক্ষে শোকর্যালি, কালোব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে মনুব্যাপারীর ঢালে নির্মিত শহীদ বেদীতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহেমদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিকর নির্বাহী সদস্য হাজী নাজিম উদ্দীন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তার বাড়ির পাশে হিন্দুদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় পকিস্তানিরা। এই সময় হিন্দু পরিবারের কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার বাড়ির পাশের একটি ডোবার পাড়ে ৮-১০টি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। মনুবেপারীর ঢাল এর আশেপাশে সবচেয়ে বেশি মানুষ হত্যা করা হয়। এই কারণে শহীদদের স্মরনে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।’ তিনি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি সারা বছর সংরক্ষণের দাবি জানান।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, উপজেলা প্রশাসন, কেরানীগঞ্জ মডেল ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এবং কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে রাজধানী ঢাকার ঘুমন্ত মানুষের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিতে থাকেন তারা। ২ এপ্রিল ফজরের নামাজের পর মিটফোড হাসপাতালের ছাদ, সদরঘাট, বাদামতলী ও সোয়ারীঘাট থেকে কেরানীগঞ্জের ওপর গুলি, মটারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। এতে জিনজিরা, আগানগর, শুভাঢ্যা, ও কালিন্দী ইউনিয়নের লোকজন এবং এসব এলাকায় ঢাকা থেকে এসে আশ্রয় নেওয়া মানুষ জীবন বাঁচাতে আবার চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকে। তারা কেরানীগঞ্জের অন্যান্য নিরাপদ এলাকায় একটু আশ্রয় নেওয়ার জন্য দৌড়াতে থাকে। কিন্তু, এসব মানুষেরা জানতো না যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের চারদিক থেকে আক্রমণ চালাচ্ছে। ফলে, প্রাণভয়ে রাস্তা, মেঠোপথ ও ফসলের মাঠ দিয়ে যারা দৌড়ে পালাতে ছিল তাদেরকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে পাখির মতো নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে।অনেকে ঘরের ভেতর আবার অনেকে নিচু জায়গায় প্রাণভয়ে আশ্রয় নিয়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি।
মনুবেপারীর ঢাল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী মহিবুল্লাহ জানান, তার বাড়ির পাশে একটি ঘরে ৫০জন ও একটি গর্তে ৪৫জন আশ্রয় নেওয়া মানুষকে ধরে এনে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।
নজরগঞ্জ এলাকায় হানাদার বাহিনী হামলা চালিয়ে চার সহোদর আফজালুল হক, ফায়জুল হক, ওবায়দুল হক ও শফিকুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নজরগঞ্জের দীঘির পাড়ে দুই সহোদর মো. রহমত উুল্লাহ ও মো. মনির হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে। নজরগঞ্জ কবরস্থানে একই কবরে ১৭ জনকে কবর দেওয়া হয়। কবরস্থানের প্রধান ফটকে এই ১৭ জনের নামফলক রয়েছে। এছাড়া ডাকপাড়ায় ৯জন, চড়াইলে ৭জন, অমৃতপুরে ৮জন, বন্ধ ডাকপাড়ায় ৩জন, জিনজিরায় ২০জন, মান্দাইলে ৬জন,মনুবেপারীর ঢালে ৫জন, আমিরাবাগে ৩জন,কালিন্দীতে ৯জন, কুশিয়ারবাগে ৪জন বোরহানিবাগে ৬জন, ভাগনায় ৩জন, আগানগরে ৩জন, লছমনগঞ্জ, গোকুলচর, রসুলপুর, গোলজারবাগ, ও ছাটগাওয়ে ১৪জন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হয়।