গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকুলী রবিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আদালত সাক্ষ্য দেন। গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রাশেদা সুলতানা তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এসময় মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদের খানসহ অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, এ মামলায় দুই দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে ৮ এপ্রিল নির্ধারণ করেন একই আদালতের বিচারক রাশেদা সুলতানা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,‘আদালতের ধার্য তারিখ অনুযায়ী সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকুলী আদালতে উপস্থিত হন। পরে দীর্ঘ সময় বিচারক তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার বাদী উল্লেখ করে বলেন, প্রধান আসামি আব্দুল কাদের খানসহ অন্য আসামিরা তার ভাইকে হত্যা করেছেন। হত্যারকাণ্ডের বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরাসহ তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ থেকে অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন,‘এমপি লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকুলীর দায়ের করা মামলায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক এমপি আব্দুল কাদের খানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। চার্জ গঠনের পর বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৮ মার্চ ধার্য করেন। কিন্তু ধার্য তারিখে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদের খান অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। পরে বিচারক ২ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু সেদিনও সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় ৮ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন বিচারক।’
প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামে নিজ বাড়িতে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকুলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল একই আসনের (জাপা) সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল কাদের খাঁনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার, কাদের খানের পিএস শামছুজ্জোহা, তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আব্দুল হান্নান, ভাড়া করা কিলার মেহেদী হাসান, শাহীন মিয়া, রানা মিয়া ও কসাই সুবল চন্দ্র। আসামিদের মধ্যে চন্দন কুমার পলাতক রয়েছেন। এছাড়া অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ৫