বুধবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোটা নিয়ে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক সমিতির নেতারাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কয়েকজন শিক্ষক অবরোধ তুলে নিতে আন্দোলনরতদের অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আন্দোলনরতদের উদ্দেশে কথা বলা শুরু করেন। উপাচার্যের বক্তব্য শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশ, লাঠিসোটা দিয়ে সেখানে অবস্থানরতদের ওপর হামলা চালায়। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
ছাত্রলীগের এই হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ আন্দোলনরতদের তোপের মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আন্দোলনরতরা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। একটি গ্রুপ অবরোধ চালিয়ে যেতে চাচ্ছিলো, অপর গ্রুপটি অবরোধ তুলে নিতে সম্মত ছিল। এই মতবিরোধ থেকে তারা কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের সরিয়ে দিয়েছে। মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। আন্দোলনরতদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আমাদের সঙ্গে দাঁড়ানো ছিল। আমরা সকাল থেকেই আন্দোলনরতদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করে আসছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকেই এগুচ্ছিলো। এর মধ্যেই যারা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা এই হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রক্টর।
কোটা সংস্কারের দাবি, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগের নির্যাতনের প্রতিবাদে সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।