বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) ছিল গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এ দিনই মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া উপলক্ষে সকাল থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস জেলা শহরের রথখোলার বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের দিকে ছুটতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের। অনেকেই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি ভাড়া করে জড়ো হতে থাকেন রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে। এ সময় ব্যানার, পোস্টার ও দলীয় প্রতীক নিয়ে মিছিল করেন তারা। রাস্তায়ও তৈরি হয় যানজট।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রার্থীর সঙ্গে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ে সভা করে নেতাকর্মীদের আচরণবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারপরও অনেকে তা না মেনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে পড়েছে।’
সরকারদলীয় প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনে ক্ষোভ জানিয়েছেন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই যেভাবে সরকারদলীয় প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, শেষ পর্যন্ত এ নির্বাচন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভাবনার বিষয়।’ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রকিব উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তারপরও কিছু অতি উৎসাহী মানুষ অনেক সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের চেষ্টা করে। আইন অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’
এদিকে, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারিফুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকারসহ মেয়র পদে ৯ জন মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র ১৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২ এপ্রিল ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। এগুলো বাছাই হবে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল। ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ পার হলে পরদিন ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে প্রার্থীদের। এর আগে কোনও ধরনের মিছিল, মিটিংয়ের আয়োজন কিংবা পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুন-
প্রতিবন্ধী স্কুল বিষয়ে নীতিমালা হচ্ছে: মেনন