রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জন্য ১৩টি বেড বরাদ্দ থাকলেও এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৮ জন রোগী। বাড়তি রোগীদের বাধ্য হয়ে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আবহাওয়াজনিত কারণে এই সমস্যা উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, হঠাৎ করে ডায়রিয়া শুরু হলে বাড়িতে খাওয়ার স্যালাইন ও ওষুধ দিয়েও কোনও উন্নতি হয়নি। ফলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে আক্রান্তদের। কিন্তু হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা। হাসপাতালে পর্যাপ্ত টয়লেট না থাকাও বড় সমস্যা মনে করছেন তারা।
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর স্বজন চন্দনী এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘আমার মা আনোয়ারা বেগম সোমবার সকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে তাকে নিয়ে গেলে তিনি সদর হাসপাতালে ভর্তির পরার্মশ দেন। দুপুরেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। তবে বেড না পাওয়ায় মেঝেতেই রাখতে হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতাল র্কতৃপক্ষ কোনও ওষুধও দিতে পারেনি। সবকিছুই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।’
আরেক রোগীর স্বজন মো. ওহিদ শেখ বলেন, আমার স্ত্রী আছিয়া বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখানে পা ফেলার জায়গাটুকুও নেই। শতাধিক রোগীর জন্য টয়লেট মাত্র একটি। ফলে সবারই খুব সমস্যা হচ্ছে।
শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সদর হাসপাতালে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীদের যথাসম্ভব ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
ডায়রিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. আলী আহসান তুহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। রিচ ফুড এড়িয়ে চলতে হবে। আর বাসি খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। সবসময় খাবার ঢেকে রাখতে হবে। খাওয়ার আগে ও পরে ভালো করে হাত ধুতে হবে।’ রোদে বের হতে হলে ছাড়া ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি।