ছুটির দিনে ছাত্রীকে নিজ রুমে ডেকে যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ড. আব্দুল হালিম প্রামানিককে (সম্রাট) শাস্তি স্বরুপ তিরস্কার এবং পরবর্তী পদোন্নতি নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দুই বছর বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭ তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই বিষয়ে জানতে ড. আব্দুল হালিম প্রামানিককে (সম্রাট) একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন ছাত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা কেমন রায় দিলো প্রশাসন, আমি বুঝতেছিনা। যৌন হয়রানির অভিযোগে এমন শাস্তি আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এই তদন্ত কমিটি মানি না। নতুন করে তদন্ত করে শাস্তি দেওয়া হোক।’
অভিযোগকারী আরেক ছাত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চতর তদন্ত কমিটি আমাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। অপ্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন করে আমাদেরকে বিব্রত এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। আমরা বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি করে।’
প্রাথমিক তদন্ত কমিটির প্রধান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়্যারম্যান হেলেনা ফেরদৌসি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যে তদন্ত করেছি, তাতে আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। আমরা উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি করে, তাদের সুপারিশে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
আর উচ্চতর তদন্ত কমিটির প্রধান ম্যানজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে প্রামানিকের বিরুদ্ধে সাংঘাতিক সম্পৃক্ততা পাইনি। তবে, তিনি যে আচরণ করেছেন; তাতে এক ধরনের এসেসমেন্ট আছে— আর সেটা আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি।তবে, এতে অভিযোগকারীরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তারা আবার নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।’
জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর জন্য দুইবার তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’ নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগের পর আমি তদন্ত কমিটিকে বলে দিয়েছি, তারা যেন জোর করে বক্তব্য না নেয়।’
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যার দিকে ওই শিক্ষক তাকে ফোন দিয়ে নিজ রুমে ডাকেন। পরে জোরপূর্বক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক যৌন নিপীড়নের সর্বোচ্চ সীমায় যেতে চাইলে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তিনি ভিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। আরেকটি অভিযোগ ছিল- অন্য এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতনের।