জবির অধ্যাপক নাসির উদ্দিনকে স্বপদে রাখার দাবিতে রবিবার মানববন্ধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদকে তার স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে তারা। প্রায় ২৫ হাজার সদস্য সম্বলিত ফেসবুকের একটি গ্রুপ থেকে এই মানববন্ধনের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা।

‘স্ট্যান্ড ফর নাসির স্যার-এই যুগের শামসুজ্জোহা’ নাম গ্রুপটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রয়েছে অন্যান্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব স্থান থেকে গ্রুপটিতে পোস্ট দিয়ে মানববন্ধনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়।

এদেক সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদের অপসারণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ও শনিবার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তি ও উসকানিমূলক বলে দাবি করেছে জবি প্রশাসন। শনিবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পাঠানো এই বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক নাসিরের  অপসারণ সম্পর্কে বলা হয়- কোটা আন্দোলন সম্প্রতি সময়ে জোরদার হয়। পক্ষান্তরে তিনি ২০১৬ সালে অধ্যাপক পদে আবেদন করেছিলেন। তাই, তার অপসারণের ক্ষেত্রে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংশ্লিষ্টতার কোনও বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অধ্যাপক পদে আবেদনের শর্তানুসারে তার জমা দেওয়া আর্টিকেল জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে নাসির উদ্দিন আহমেদ কর্তৃপক্ষের নিকট কারণ দর্শানোর জবাব দেন। কারণ দর্শানোর জবাব যথাযথ প্রতীয়মান না হওয়ায়, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন: যৌন হয়রানির অভিযোগে জবি শিক্ষককে তিরস্কার

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-নাসির উদ্দিন আহমদ কর্তৃক অন্যজনের প্রকাশনার (আর্টিকেল) লেখা নকল করার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক গত ২৬ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চাকরি থেকে অপরসারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ড. আব্দুল হালিম প্রামানিক সম্রাটের বিরুদ্ধে ছুটির দিনে ছাত্রীকে নিজ রুমে ডেকে যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিরস্কার এবং পরবর্তী পদোন্নতি নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দুই বছর বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।