বশেমুরকৃবিতে হামলা-ভাঙচুর, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আটক

অফিস কক্ষে ভাঙচুরগাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়ের (বশেমুরকৃবি) উপাচার্য ও ট্রেজারের অফিস কক্ষ, গাড়ি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৫/৩০ জনকে আটক করেছে।  মঙ্গলবার সাড়ে ৮টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।

জয়দেবপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, বশেমুরকৃবিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে বাঁধন ও শাওনসহ ২৫ থেকে ৩০জনকে আটক করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর ড. আরিফুর রহমান খান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সালনা এলাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি) ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তারা তিন সেমিস্টার একাডেমিক পদ্ধতি বাতিল করে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দুই সেমিস্টার পদ্ধতি চালুকরণ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএস ডিগ্রি প্রাপ্ত (সিজিপিএ ২.৫০-৪.০০) সব শিক্ষার্থীকে এম এস কোর্সে ভর্তির সুযোগ এবং আবাসন সংকট সমাধানসহ তের দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন ক্লাসে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের বাইরে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আন্দোলনরতরা প্রধান গেটে অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে অনশন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর ড. আরিফুর রহমান খান জানান, সন্ধ্যায় খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আন্দোলনরত কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায়। তারা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের অফিস কক্ষে প্রবেশের জন্য কলাপসিবল গেট ভাঙ্গার চেষ্টা করে। পরে হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারের গাড়িসহ অফিস কক্ষের দরজা জানালা এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়া ও ট্রেজারার প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ তাদের অফিস কক্ষে ছিলেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফজলে রাব্বি বাঁধন ও সাধারণ সম্পাদক শাওনসহ ২৫ জনকে আটক করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বহিরাগতও রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে অবস্থান ধর্মঘটবশেমুরকৃবির প্রক্টর আরও জানান, এস এম ফজলে রাব্বি বাঁধন বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়। সে কয়েক বছর আগে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস করে। গুটি কয়েকজন ছাড়া আন্দোলনরতদের অধিকাংশই বহিরাগত। সেমিস্টার সিস্টেমটা পরিবর্তন করাটা এ মুহুর্তে সম্ভব না হলেও আন্দোলনরতদের দাবিসমূহের অধিকাংশই পর্যায়ক্রমে সমাধানের পথে। এখানে কোনও আবাসন সংকট নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থীর সবারই আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ জানান, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যহত রাখতে বশেমুরকৃবি কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।