প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষকেরা। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসিমা খানম জানান, সম্প্রতি নির্বাচনি তফসিলের মাধ্যমে স্কুলের চার জন অভিভাবক (পুরুষ ও মহিলা) সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু স্কুলের বিদ্যুৎসাহী সদস্য আবুল বাশার অভিভাবক সদস্য যথাযথভাবে নির্বাচন হয়নি মর্মে শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন।
প্রধান শিক্ষক নাসিমা খানম জানান, রবিবার সকাল ১১টায় এ অভিযোগের তদন্তে শিক্ষা কর্মকর্তারা স্কুলে আসার কথা ছিল। কিন্তু সময় পরিবর্তন করে দুপুর ২ টায় বাদীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার তার কার্যালয়ে ডাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিদুৎসাহী সদস্য আবুল বাশার, বড়টিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম রওশন, মো. শামীম, আব্দুল হাই, পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এসময় দফতরি মো. হাফিজ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়াসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় প্রধান শিক্ষক নাসিমা খানমকে।খবর পেয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতারা ঘটনাস্থলে আসেন।
প্রধান শিক্ষক নাসিমা খানম এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হাসেম জানান, বিদুৎসাহী সদস্য আবুল বাশারকে বিনাভোটে সভাপতি বানানোর জন্যই একটি চক্র নানা অপতৎরতা চালাচ্ছে। নানা কায়দায় তারা দুই দফা নির্বাচন স্থগিত করে। তৃতীয় দফা তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে সভাপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। অথচ বাশার মনোনয়নপত্রই সংগ্রহ করেননি। কিন্তু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন
প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও দফতরিকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়টিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম রওশন বলেন, ‘দফতরি হাফিজই আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।’
ঘিওর উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি না হলে উপজেলার শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঘিওর থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।