টাঙ্গাইলে যুবলীগ নেতা হত্যা হামলায় রিমান্ড শেষে এমপি রানা কারাগারে

এমপি রানা

টাঙ্গাইলে যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠায় গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অশোক কুমার সিংহ বলেন,‘দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন এমপি রানা। যা তদন্তের স্বার্থে এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না। তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতে যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমপি রানাকে বুধবার (৯ মে) গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন বিচারক। পরে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে এমপি রানার উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে ওই আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মাসুম বিকেলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এমপি রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরন মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এ ঘটনার সঙ্গে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

এমপি রানা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।