মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স মিয়াজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির মালিক মিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে জনশক্তি রফতানির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ব্যবসা পরিচালনাকালে উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরুর মাধ্যমে মনোহরদীর পাঁচকান্দি এলাকার মোখলেছুর রহমান লিবিয়ার ৩৮০টি ভিসা আদান প্রদান সংক্রান্ত একটি চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান বীরুকে অবহিত করে মিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া বিভিন্ন সময় মোখলেছুর রহমানকে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে লিবিয়ায় কর্মী নেওয়া কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেলে মিয়াজ উদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান ও মোখলেছুর রহমানের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা টালবাহানা করেন। পরে এ ঘটনায় মিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া বাদি হয়ে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় আদালত তদন্তের জন্যে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিলে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ছাদেক মিয়া তদন্ত করে এ ঘটনার সত্যতা পান। যা আদালতে গত বছরের ১৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু ও মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু বলেন, ‘মিয়াজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক মিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে পাঁচকান্দি এলাকার মোখলেছুর রহমানের লিবিয়ার ভিসা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এতে আমাকে মৌখিকভাবে একবার সাক্ষী করা হয়েছিল। আমি তো কারও সঙ্গে লেনদেন করিনি। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে।’
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি গ্রেফতারি পরোয়ানার কোনও কাগজপত্র এখনও পাইনি।’