নড়িয়া থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘স্ত্রীকে হত্যা করে তার স্বামী জসিম পালিয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা মামলার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
মনিমালার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, ‘পারিবারিক কলহের কারণে জসিম মনিমালাকে প্রায়ই মারধর করত। আমরা অনেকবার বোনকে আমাদের কাছে নিয়ে আসতে চেয়েছি। কিন্তু সে সন্তানদের কথা ভেবে স্বামীর সংসার ছাড়তে চায়নি। শত নির্যাতন সহ্য করেও টিকে থাকতে চেয়েছে। এখন তাকে পৃথিবী ছাড়তে হলো। জসিম এভাবে আমার বোনকে হত্যা করবে তা ভাবতেও পারিনি।’
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাপাড়া এলাকার ইয়ার বকস সরদারের মেয়ে মনিমালা। প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ১০ বছর আগে চরনড়িয়া গ্রামের জসিম বেপারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের চার বছরের মধ্যে তাদের দুই ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। জসিম নরসিংদীতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। আর মনিমালা সন্তানদের নিয়ে নড়িয়ায় থাকতেন। জসিম নরসিংদীতে একটি বিয়ে করেছে এমন একটি খবর জানতে পারে মনিমালা। এ নিয়ে তাদের মাঝে অনেকবার ঝগড়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে প্রতিবারই সমঝোতা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ দিন আগে জসিম নরসিংদী থেকে চরনড়িয়ায় আসে। এ পাঁচ দিন মনিমালাকে আটকে রেখে মারধর করে সে। বৃহস্পতিবার রাতে বসতঘরের একটি কক্ষে দুই ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে তারপর মনিমালার হাত-পা বেঁধে শুক্রবার ভোর রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। সকালে বাচ্চারা কান্নাকাটি করলে প্রতিবেশীরা গিয়ে মনিমালার মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) আব্দুল হান্নান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।