রমজানের প্রথমে দোকানে কেনাবেচা কম থাকলেও এখন এর সংখ্যা অনেক বেশি। ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে অনেক মার্কেটেই দোকানিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এবারের ঈদ মার্কেটে ক্রেতাদের মধ্যে সিংহভাগই নারী।
এদিকে শুধু নারী ক্রেতাই নয় ছেলেরাও ভিড় করছেন বিভিন্ন দোকানে তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে জানা যায়, বেশিরভাগ ছেলেদের পছন্দ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি, ফরমাল শার্ট, শেরোয়ানি, টি-শার্ট, ফিটিং শার্ট, নিত্যনতুন ডিজাইনের জিন্স, গেবাডিন প্যান্ট, বেল্ট, জুতা ও বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির পারফিউম।
এদিকে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা বিভিন্ন হকার মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন বেশি। এর বাইরে কসমেটিকস ও স্টেশনারি দোকানেও কমতি নেই ক্রেতাদের। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, গত বছরের তুলনায় পোশাকের দাম এবার কিছুটা বেশি। তবুও সন্তুষ্ট তারা, কারণ হাতের নাগালেই পাচ্ছেন সবকিছু। সেই সঙ্গে নিরাপদে কেনা-কাটা করতে পারায় ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ঈদের কাপড় কিনতে আসা ক্রেতা ন্যান্সী জাহান বলেন, প্রতিবারই ঈদে নিত্যনতুন জামা আসে। ঘুরে ঘুরে দেখছি, পছন্দমত কিনবো। তবে গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তাই পোশাক কিনতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু এবার নতুন নতুন ডিজাইনের জামা চোখে পড়ছে। ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়াল ও ছবির নাম অনুসারেও পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে কাপড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার দেশি পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় পোশাক বিক্রি হচ্ছে সমানতালে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, দেশি-বিদেশি যাই হোক ঈদে চাই পছন্দের পোশাক কিন্তু হতে হবে সাধ্যের মধ্যে।
এসবি ফ্যাশনের মালিক বিলকিছ বেগম বলেন, আমার দোকানে সাধারণত দেশীয় হাতের তৈরি বুটিক ও ব্লক বাটিকের থ্রি-পিছ, সুতির থ্রি পিছ ও শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এবারের ঈদ বাজারে সুতির কাপড়ের বেশ চাহিদা থাকায় বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে। দামের দিক থেকেও সবার হাতের নাগালে। ঈদের এখনও কয়েকদিন বাকি আছে। আশা করছি শেষ পর্যন্ত বেশ ভালোই বিক্রি করতে পারবো।
মাইশা থ্রি-পিস বিপণির মালিক বলেন, এখন পর্যন্ত বেশ ভালোই বিক্রি চলছে, রমজানের শেষের দিকে ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করি। তাই বিক্রিতে কোনও ক্লান্তি নেই, গভীর রাত পর্যন্ত আমরা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখছি৷ বাচ্চাদের পোশাকের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে বিক্রিও ভালো হচ্ছে৷
অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই দর্জির দোকানগুলোতেও। বেশির ভাগ দর্জির দোকানে নতুন করে কোনও অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। আগে নেওয়া কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করছে তারা। কোনও রকম ফুসরত মিলছে না। যেভাবেই হোক ঈদের আগে সব জমানো কাজ শেষ করতে হবে।