পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার (৬ জুন) দুপুরে খালপাড়া এলাকার ঈদগাহ সংলগ্ন একটি পুকুরে গোসল করতে যায় হানযালা (১০) নামের একটি শিশু। হানযালা বিল্লাল মিয়ার ছেলে ও হাফিজ উদ্দিনের নাতি। পুকুরে গোসল করার সময় পাড়ে বসে থাকা একই এলাকার সিদ্দিক মিয়ার শরীরে পানি লেগে সে ভিজে যায়। এ ঘটনায় সিদ্দিক হানযালাকে চড় মারে। এরপর হানযালার বাবা সিদ্দিককে চড় মারার কারণ জানতে চায় এবং বকাঝকা করেন। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরে হানযালার দাদা হাফিজ উদ্দিন পুকুর পাড় দিয়ে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। তখন সিদ্দিক, আবু তালেব ও উবায়দুল্লাহসহ কয়েকজন তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ মিয়া বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। একেবারেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গত ১ জুন দুপুরে মনোহরদীতে হাজী ভবনের নিচতলা থেকে মাহবুবুর রহমান কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এক শিক্ষার্থীর বাইসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনার দুদিন পর মার্কেটের পেছনে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়ে আবদুর রহিম নামে এক যুবককে ধরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তৃতীয় তলার ছাদে মারধর করে। চিৎকারে আমজাদ হোসেনসহ কয়েকজন পথচারী গিয়ে রহিমকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। ঢামেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রহিমকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পলাতক রয়েছে।
আবদুর রহিমের খালাতো বোন সুফিয়া বেগম বলেন, ‘মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে পিটিয়েছে। রহিম ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার চাই।’
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুদ্দীন ভূঞা বলেন, লাশ নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা ঘটনাটি জানার পর দুর্গাপুর থানা পুলিশকে লাশ ময়নাতদন্তের অনুরোধ জানিয়েছি। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ করলে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।