মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম, ধলাই, উফাজানি ও সরুপাই গ্রামের গৃহবধূরা মুড়ি ভাজেন। সরেজমিন ধলাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রোকেয়া বেগমের বাড়িতে হাতে ভাজা ভুষিভাঙা মুড়ির ময়ময় গন্ধ। পরিবারের সবাই ব্যস্ত মুড়ি তৈরির কাজে। রোজার প্রথম থেকে প্রতিদিন তারা ২-৩ মণ মুড়ি মাটির চুলায় ভেজে বিক্রি করছেন।
পাইকাররা এখান থেকে মুড়ি কিনে জেলা শহরের বড় বড় দোকানে নিয়ে বিক্রি করে। এছাড়া এই অঞ্চলের মুড়ি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। এই গ্রামের কমপক্ষে আরও ১০-১৫টি বাড়িতে চলছে মুড়ি ভাজার ধুম।
রোকেয়া বলেন, ‘হাতে ভাজা মুড়ির কদর সবচাইতে বেশি থাকে রমজান মাসে। আমরা যে মুড়ি তৈরি করি তাতে কোনও ধরনের ভেজাল নেই। নেই কোনও রাসায়নিক ও ক্ষতিকার পদার্থ। যার কারণে হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশি। এই মাসে প্রতিদিনই পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে মুড়ি কিনে তা শহরে বেশি দামে বিক্রি করে। পাইকাররা আমাদের থেকে প্রতিকেজি মুড়ি ১০০-১০৫ টাকা দরে কেনে। আর বিক্রি করে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে।’
একই গ্রামের সকিনা বেগম বলেন, ‘সারা বছরের চাইতে রমজানে আমাদের তৈরি হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেক বেশি। মুড়ি ভেজে সারা যায় না। মাথার ওপর পাইকাররা দাঁড়িয়ে থাকে। তবে বরিশাল থেকে চড়া দামে ধান কিনে আনার কারণে লাভ কম হয়।’
মুড়ির আরেক কারিগর শাজানান মিয়া বলেন, ‘বাজারে মেশিনে সার দিয়ে ভেজাল মুড়ি তৈরি করায় আমাদের মুড়ি উৎপাদন অনেক কমে গেছে। কারণ ওইসব মুড়ি প্রতিকেজি ৫০-৬৫০ টাকায় পাওয়া যায়। আর আমাদের কাছ থেকে এক কেজি মুড়ি কিনতে হলে কমপক্ষে ১১০ টাকা লাগে।’
নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন ফরহাদ জানালেন, আগে চার গ্রামে ১০০ পরিবার মুড়ি ভাজার কাজ করতো। এখন কমে হয়েছে ২০-২৫ পরিবার। এদের সরকারিভাবে সহযোগিতা দেওয়া হলে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আবারও ফিরে আসতো এই পেশার লোকবল।