নরসিংদীতে টেঁটাযুদ্ধ বন্ধে শপথ

টেঁটা জমা দেওয়া হচ্ছেনরসিংদীর চরাঞ্চলে যুগ যুগ ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধের অবসান ঘটাতে বিবদমান ১৪টি গ্রুপের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১০ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের নজরপুর ইউনিয়নে এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিবদমান গ্রুপের নেতারা তাদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১ হাজার টেঁটা আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে জমা দিয়ে টেঁটাযুদ্ধ বন্ধের শপথ নেন।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, নরসিংদী পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহরিয়ার আলম অনুষ্ঠানে তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

ইউপি চেয়ারম্যান বাদল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অলিউর রহমান আজিম, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান, ওসি (অপারেশন্স) মোজাফফর হোসেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নজরপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদী পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘আজকের এ মিলনমেলার পরও যদি ফের টেঁটা সংঘর্ষ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে টেঁটায় জড়িতদের এলাকা ছাড়া করা হবে। কতিপয় বাটপার ও দালালের কারণে পুরো নরসিংদী জেলার বদনাম হউক, এটা কেউ চাই না।’ বিনা কারণে কেউ কাউকে উস্কানি থেকে সতর্ক থাকারও অনুরোধ করেন তিনি।

জমা দেওয়া টেঁটাএসময় নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘টেঁটাযুদ্ধ বন্ধ করার জন্য শুধু টেঁটা জমা করাই যথেষ্ঠ নয়, মানসিকতারও পরিবর্তন করতে হবে। কেননা এসব যুদ্ধে কতিপয় দালালের ফায়দা লোটার সুযোগ হয়, আপনারা যারা সাধারণ মানুষ আপনাদের জানমালের ক্ষতি হয়। এ অনুষ্ঠানের পরও যদি কেউ টেঁটা জমা না দিয়ে থাকেন, তারা নিজেরাই এসব টেঁটা ধ্বংস করে ফেলবেন, নতুবা আপনাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি পুনরায় টেঁটা সংঘর্ষ হয়, তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলেও ড্রোন ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্তদের ছবি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এসব টেঁটা তৈরি, প্রদর্শন ও সংঘর্ষে জড়িতদের ছবি পুলিশকে দিয়ে সহায়তাকারীকে নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। 

উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরাঞ্চলের নজরপুর ইউনিয়নে গত ১ জুন দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘটিত টেঁটাযুদ্ধে নারীসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছিলেন। একইভাবে বছরের পর বছর ধরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে চলে আসা টেঁটাযুদ্ধে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সরকার দলীয় রাজনীতিবিদদের উদ্যোগে এসব টেঁটাযুদ্ধ বন্ধের জন্য স্থানীয়ভাবে বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে মিলনমেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।