মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তৈরি একটি পাকা ভবন পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাড়িতে এই নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের তিনি নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে বলেছিলেন। কিন্তু তারা এই ব্যাপারে গুরুত্ব দেননি। এক বছর পাড় হওয়ার আগেই তার ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। নিম্নমানের কাঠ দেয়ায় দরজা-জানালা বাঁকা হয়ে গেছে, যা লাগানো সম্ভব হয় না। নষ্ট হয়ে গেছে নলকূপটিও।
ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণের সময় আমি ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারকে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারে নিষেধ করি এবং এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাই। তখন তারা কোনও ব্যবস্থা নেননি। এখন ঘরের প্রায় দরজাই বাঁকা, আটকানো যায় না। এমনভাবে ফাটল ধরেছে ঘরের মধ্যে থাকতে ভয় পাচ্ছি।
কেন্দুয়া ইউনিয়নের কাউয়াকুড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলী বলেন, বেশ কয়েকবার উপজেলা এলজিইডি’র ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মাদারীপুর সদরে নির্মাণের সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভবন হস্তান্তরের পর এক বছরের মধ্যে বড় ধরনের কোনও সমস্যা হলে ঠিকাদার মেরামত করে দেবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ করা খুবই স্পর্শকাতর। ক্ষতির তুলনায় তাদের অভিযোগ বেশি। তারপরও যেহেতু এই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছি।’
উল্লেখ্য, মাদারীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’ ভবন হস্তান্তরের দশ মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এক বছর পার হওয়ার পর ঠিকাদাররা জামানত বুঝে নেবেন। এরপর এসব ভবনের ব্যাপারে তাদের অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও দায় থাকবে না।