চাপ নেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ

01ঈদ যাত্রায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও স্বস্তিতে বাড়ি ফিলছে ঘরমুখো মানুষ। মহাসড়কে টঙ্গীর আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুরর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত কোনও যানজট দেখা যায়নি। ঈদ যাত্রায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই ১২ কিলোমিটার অংশে যানজটের আশঙ্কা করলেও এখন পর্যন্ত মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়নি। ব্যস্ততম এই মহাসড়কে ভোগান্তি ছাড়াই ঈদে ঘরমুখো উত্তরাঞ্চলের মানুষ যাতায়াত করেছেন। স্বাভাবিক গতিতেই গাড়ি চলছে মহাসড়কে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী, বোর্ড বাজার, মালেকের বাড়ি, কলেজগেট, ভোগড়া বাইপাস এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এবারের ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করছে। মাঝে মাঝে মহাসড়ক অনেক সময় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তবে ফাঁকা এই মহাসড়কে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপে করেও গ্রামের দিকে রওনা দিচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ। যানজট নিরসনে তৎপর রয়েছে পুলিশ। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মহাসড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ অনেক বেশি।

ময়মনসিংহগামী ইসলাম পরিবহনের চালক মফিজ উদ্দিন বলেন, গত বছর ঈদের এক সপ্তাহ আগেও যানজটে নাকাল ছিল মহাসড়কটি। এবারও মহাসড়কটিতে যানজটের তীব্র আশঙ্কা করেছিলাম। তবে এবার ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়কের কোনও স্থানে যানজট চোখে পড়েনি।

আলম এশিয়া পরিবহনের ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়াগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, বিগত বছরে ঈদের সপ্তাখানেক আগে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কারণে মহাসড়কে জ্যামে আটকে থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। এবারের যাত্রায় যানজট না থাকায় এ সড়কে যাতায়াতরত চালক ও যাত্রীদের স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার দৃশ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

02ময়মনসিংহগামী সোনার বাংলা পরিবহনের যাত্রী শারমিন আক্তার সাথী বলেন, আগে এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট লেগেই থাকতো। এ মহাসড়কের ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা অঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ এবার স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন।

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাসুদেব সিনহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চাপও বাড়ছে। তবে কোথাও কোন দীর্ঘ বা স্থায়ী যানজট সৃষ্টি হচ্ছে না। মহাসড়ক অনেক সময় ফাঁকা থাকলেও আগামীকাল শুক্রবার থেকে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে অন্য সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেশি রয়েছে। আজ সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত ও কিছু পোশাক কারখানা ছুটি হবে। তাই আগামীকাল শুক্রবার থেকে যানবাহন ও ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। মূলত আগামীকালের যানজট নিরসনের পরিকল্পনা করেই আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’

তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা যানজট নিরসনে কাজ করছে। প্রতি দুই কিলোমিটার সড়কে একটি করে মোটরসাইকেলে ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দল রয়েছে। কোথাও যানজট শুরু হলে তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া যানজট নিরসনে ৩টি স্থানে আইপি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুরের মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন বলেন, ‘মাওনা উড়াল সেতুর নিচে যানবাহনের চাপের কারণে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। তবে কোনও যানজট হয়নি। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি শ্রীপুর থানা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছে। শুক্রবার থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেশি বাড়বে। ওই সময় যাতে মহাসড়কে কোনও যানজট সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অহিদুজ্জামান বলেন, ‘এবারের ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে যেতে পারছে। মহাসড়ক প্রায়ই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। আশা করছি ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই মহাসড়ক পাড়ি দিতে পারবেন।’

গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কে যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৬১৮ জন সদস্য কাজ করছেন। এ ছাড়াও যানজট নিরসনে ৩টি স্থানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বিঘ্নে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি যেতে পেরেছে।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘মহাসড়কে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য এবং কমিউনিটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আসন্ন ঈদে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে এবং ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের বাড়ি পৌঁছাতে পারে সেজন্য গাজীপুর পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’