খোরশেদ আলম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ছয়ঘরিয়া এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিকাশ এজেন্ট ও ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মানি ট্রান্সফার করে আসছিল। এই চক্রের একাধিক সদস্য রয়েছে বলে র্যাব জানায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ র্যাবকে জানায়, সে ২০০৯ সালে মালদ্বীপে গিয়েছিল। মালদ্বীপে থাকাকালে কয়েকজন অনলাইন হ্যাকারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে তাদের কাছ থেকে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি শিখে নেয়। পরে ২০১৫ সালে দেশে ফিরে এসে বাড়িতে বসেই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে। প্রথমে সে একটি সফটওয়্যারের সাহায্যে এজেন্টদের পুরো সিস্টেমটি হ্যাক করে। পরে এজেন্টের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সব টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেয়। এ কাজের জন্য সে ৬৩টি সিমকার্ড ব্যবহার করতো। সবক’টি সিমই ছিল অন্যের নামে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করা।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, সে অসংখ্য এজেন্টের ও ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এককালীন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা স্থানান্তরসহ এ পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে সে।
র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লা মেজর মো. আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর রাতে হ্যকিং করার সময় তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে (৫৭ ধারা) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে কাজ করছে র্যাব।
তিনি বলেন, ‘তাকে গ্রেফতারের সময় দুটি ল্যাপটপ, ৪টি ওয়াইফাই রাউটার, ৭টি পেনড্রাইভ, ২টি হার্ড ড্রাইভ, ২টি হার্ডডিস্ক, ১টি মডেম, ৭টি হ্যাকিং সফটওয়্যার ভাইরাস সিডি, ১টি ইউপিএস, ৯টি মোবাইল, ৬৩টি সিমকার্ড, ৭টি এটিএম কার্ড, দুটি ব্যাংকের চেক বই এবং দুটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে।’