জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম জানান, গত ১৮ জুন প্রবীর চন্দ্র ঘোষ নিখোঁজ হলে পরিবারের জিডির ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে থাকে। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি না হলে গত ৫ জুলাই বিষয়টি তদন্তের ভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে সোমবার সকালে পিন্টু সরকার ও তার দোকানের কারিগর বাপন ভৌমিককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টায় পিন্টু সরকারের ভাড়া বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করে হয়। তবে লাশের দুটি পা পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আটক দুজন ওই ফ্ল্যাট বাড়িতেই ছিল। ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত প্রবীর চন্দ্র ঘোষ ও সন্দেহভাজন হত্যাকরী পিন্টু সরকার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত করে বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
নিহত প্রবীর চন্দ্রের ছোট ভাই সুবির চন্দ্র এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তারা এ ব্যাপারে থানা পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ি করে বলেন, ‘পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে প্রবীরকে হয়তো জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হত।’ এসময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
কালিরবাজার স্বর্নশিল্পালয় শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অরুন দত্ত জনান, প্রবীর চন্দ ঘোষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমারা প্রবীন চন্দ্র ঘোষের সন্ধানের দাবিতে কালিবাজারে যতবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছি সব আন্দোলনেই পিন্টু সরকার ও বাপেন ঘোষ উপস্থিত ছিল। আমি চাই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন রাত সাড়ে নয়টায় নগরীর বালুরমাঠ এলাকার নিজ বাসা থেকে কালিরবাজার এলাকায় গিয়ে নিখোঁজ হন প্রবীর চন্দ্র ঘোষ। নিখোঁজের পরদিন ১৯ জুন প্রবীর ঘোষের বাবা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এ ঘটনার তিন দিন পর মুঠোফোন করে মুক্তিপণ বাবদ এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। এদিকে প্রবীর চন্দ্র ঘোষের সন্ধানের দাবিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আন্দোলন শুরু করে। যেখানে পিন্টু সরকার ও বাপেন ঘোষও অংশ নেয়।