সোমবার রাতে এ অভিযানে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীর র্যাব-১১ কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন চৌধুরীর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।
প্রেস বিজ্ঞপিতে র্যাব জানায়, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব ১১-এর অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সালাউদ্দিন নামে এক পাইকারি ইয়াবা বিক্রেতার নাম উঠে আসে। সে নিজের প্রাইভেটকারে ইয়াবা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। কয়েকদিন আগে কদমতলী এলাকায় ফ্রেন্ডস টাওয়ারে সালাউদ্দিনের একটি ভাড়া বাসার সন্ধান পাওয়ার পর র্যাব-১১ সদস্যরা সোমবার রাতে বাসায় সালাউদ্দিনের অবস্থান জানতে পেরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার জাসিম পালিয়ে যায়। এ সময় তার সহযোগী সুমন গ্রেফতার হয়। সুমনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সালাউদ্দিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৮ লাখ ৫০ হাজার ৪শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর দুই ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নগর খানপুর এলাকায় সালাউদ্দিনের আরেকটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও টাকার মালিক সালাউদ্দিন পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই। মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে প্রায় ৭ মাস আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। সেই থেকে সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়। পলাতক হলেও সে এখনো নারায়ণগঞ্জ ডিবি’র অফিসার পরিচয় দিয়ে থাকে। স্থানীয় লোকজন তাকে সালাউদ্দিন স্যার ও ডিবি স্যার হিসেবে চিনে। এরইমধ্যে সে মাদক ব্যবসা করে প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছে। গ্রেফতার সুমন আরও জানিয়েছে, তার মালিকানাধীন ৩টি প্রাইভেটকার ইয়াবা পরিবহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। জসিম, ওসমান ও বাহাদুর নামে তার তিনজন ড্রাইভারও আছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে ‘জেন্টস পার্লার’ নামে বিউটি পার্লার। মাদক ব্যবসার আর্থিক হিসাব দেখাশোনার জন্য রয়েছে তার ব্যক্তিগত সহকারী। সুমন দীর্ঘদিন ধরে সালাউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। জসিম, ওসমান ও বাহাদুর প্রাইভেটকারে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্পটে নিয়মিত ইয়াবা পৌঁছে দেয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সুমন সালাউদ্দিনের নির্দেশ মতো ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে থাকে। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে র্যাব জানায়।