২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বরে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জারি করা ৪৮.০০.০০০০.০০২.১২-৩৪০ পরিপত্রে ২৬.০৩.১৯৭১ তারিখে মুক্তিযোদ্ধার বয়স ১৩ এবং তিনি স্বীকৃত ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতাধীন বলে উল্লেখ করা হয়। শামসুল হকের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ১৯৫৯ সালের ১ এপ্রিল লেখা রয়েছে। নির্ধারিত তারিখে তার বয়স দাঁড়ায় ১১ বছর ১১ মাস ২৫ দিন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে শামসুল হকের ভাতা পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের ১২ জুন ৪৮.০০.০০০০.০০২.১২-৩৪০ পরিপত্রের ২৪২ নম্বর স্মারকে (৪) এর উপানুচ্ছেদ ঙ মোতাবেক বয়স যোগ্যতা ১২ বছর ৬ মাসে শিথিল করা হয়। তারপরও তাকে ভাতার আওতায় আনা হয়নি। সারাদেশের মতো ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নিকলীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে ট্রেনিংপ্রাপ্ত সত্ত্বেও বসুবাহিনীর অনস্বীকার্য অবদানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের গণ্য করা হয়। কিন্তু শামসুল হক আটকে থাকেন বয়সের কারণে।
শামসুল হক বলেন, ‘অসহায় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকার আমাকে বাড়ি করে দিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রে আমাকে না জিজ্ঞেস করেই তাদের মনগড়া মতো বয়স বসিয়ে দিয়েছিল। ধরা পড়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময়। সংশোধনের জন্য উপজেলা নির্বাচন কমিশনের দ্বারে দ্বারে তিন বছর ধরে ঘুরছি। ২০১৬ সালে জন্ম তারিখের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করেছি। কোনও সমাধান না পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই আবারও আবেদন করেছি। ভাতা বন্ধ, ছেলে-মেয়ে বেকার। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কোথাও আবেদনও করতে পারছে না।’
নিকলী উপজেলা নির্বাচন অফিসার নাজমা বেগম বলেন, ‘আমরা ঢাকার আগারগাঁওয়ে কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। কেন এখনও হলো না, তা বলতে পারছি না। তিনি নতুন করে আবারও আবেদন করেছেন।’
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, শামসুল হক ভোটার হয়েছেন ঢাকার লালবাগে। ইতোমধ্যে তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন বয়স সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খাঁন বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা শুনেছি। বিরল অবদান সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল বয়স লিপিবদ্ধের কারণে তার ভোগান্তি দুঃখজনক। বয়স সংশোধিত হয়ে এলে আমার পক্ষ থেকে যা করণীয় দ্রুত সব করে দেবো।’