সড়কপথে মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ যেতে অনেক সময় লাগে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ সড়কের অনেকাংশই খানাখন্দে ভরা। তাই যাত্রীদের বেশ কষ্ট করে যেতে হয়। একই সঙ্গে যানজটের কারণে অনেক বেশি সময় লাগে। তবে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌ-রুটে লঞ্চ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ৩৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা আছে। তাই সময় বাঁচানোর পাশাপাশি আরামে যাত্রা করার জন্য বেশিরভাগ মানুষ লঞ্চে চলাচল করতে চান। তবে দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে আসা যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে চলাচল করতে হয়। কারণ এখানে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ লঞ্চের হেডলাইট নেই। আর যেগুলোর আছে তাও সামান্য আলো দেয়। ফলে রাতের বেলা এসব লঞ্চ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এজন্য বিভিন্ন সময় বালুবাহী বাল্কহেডসহ অন্যান্য জলযানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রায়ই অনেক যাত্রী আহত হয়। অনেক যাত্রীর লঞ্চ থেকে নদীতে ছিটকে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এছাড়া অতি পুরনো ইঞ্জিন অনেক সময় মাঝ নদীতে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক সময় অপচয়ের পাশাপাশি বড় লঞ্চের আঘাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ না ছাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী তোলার পাশাপাশি লঞ্চ স্টাফদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও বেশ পুরোনো।
মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য দীল মোহাম্মদ কোম্পানি বলেন, গত ২০-২৫ বছরে এই রুটে নতুন কোনও লঞ্চের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ইঞ্জিনতো পুরোনো হবেই। তাছাড়া লঞ্চ ব্যবসায় তেমন লাভ নেই। তাই নতুন করে কেউ এ ব্যবসায় আসতেও চায় না। পুরাতন মালিকরা কোনও রকমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ না ছাড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সময় নিলে নারায়ণগঞ্জ ঘাটে জরিমানা করা হয়। তবে মুন্সীগঞ্জ ঘাটে জরিমানা করা হয় না। ইঞ্জিনের দুর্বলতার কারনে কোনও কোনও লঞ্চ বেশি সময় নেয়।