চার বছর আগে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির ঘটনার নিখোঁজ ৬১ জনের পরিবার এখনো সরকার থেকে ক্ষতিপূরণ পায়নি। চার বছরেও তাদের ‘কাগজপত্র ঠিক হয়নি’ যে কারণে তারা এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।
মুন্সীগন্জের লৌহজং উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো. মনির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,‘কিছু পরিবার সরকার থেকে এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি, কিছু পরিবার পেয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কাগজপত্র তৈরি করা বাকী থাকায় এখনো তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
এদিকে, এ ঘটনার সাড়ে তিন বছরের মাথায় মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে আসামিরা কেউ কারাগারে নেই। মামলায় গ্রেফতার লঞ্চের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু ও তার ছেলে ওমর ফারুক লিমন গ্রেফতারের তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পান। অন্য আসামিরা আজও গ্রেফতার হয়নি।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান,‘মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন আছে। আসামিদের দুইজন জামিনে আছে কিন্তু বাকী আসামিদের ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না।’
২০১৪ সালের ৪ আগস্ট লঞ্চডুবির ঘটনার পরদিন বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বাদী হয়ে লৌহজং থানায় ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক কালু মিয়া ও মালিকের ছেলে ওমর ফারুক লিমন ছাড়াও ওই সময় আরও চারজনকে আসামি করা হয়।
তারা হলেন, লঞ্চের পুরনো মালিক মনিরুজ্জামান খোকন, সারেং (মাস্টার) গোলাম নবী বিশ্বাস, সুখানী (গ্রিজার) ছবদর মোল্লা ও কাওড়কান্দি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল হাই শিকদার। তবে তদন্তের পর চার্জশিট থেকে মনিরুজ্জামান খোকন ও আব্দুল হাই শিকদারের নাম বাদ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মামলার একজন তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো. ইমরুল জানান, ‘নাম ঠিকানায় মিল না থাকায় এ দুই জনকে মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে পর আরও দুই আসামির নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন, ‘আবুল কাশেম হাওলাদার ও ইসমাইল হোসেন খান ওরফে মিনিস্টার।’
লঞ্চ ডুবিতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৯টি মরদেহ। তাদের মধ্যে ২২ জনের মরদেহ অজ্ঞাত হিসাবে দাফন করা হয়েছে। এছাড়াও নিখোঁজ রয়েছে ৬১ জন।