টার্কি পালনে স্বাবলম্বী সোহরাব

টার্কি পালনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সোহরাবের ভাগ্যের চাকানিজের সততা আর নিরলস পরিশ্রমে টার্কি পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন রাজবাড়ী জেলার মো. সোহরাব (৩৭) হোসন। ছোট বড় মিলিয়ে এখন দুই শতাধিক টার্কি রয়েছে তার খামারে। সঙ্গে সঙ্গে তার দেখাদেখি টার্কি খামার করে স্থানীয় বেকার যুবকদের জীবনচিত্রও পাল্টে গেছে।

সোহরাব পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বৃত্তিডাঙ্গা গ্রামের রৌস্তম আলীর ছেলে। স্বল্পশিক্ষিত বলে তার কোনও ধরনের চাকরি জোটেনি। তাই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পৈতৃক ভিটায় শুরু করেন টার্কি পালন। এর পরপরই বদলে থাকে তারা ভাগ্যের চাকা। টার্কি খামার করে আজ তিনি স্বাবলম্বী।

সোহরাব হোসেন বলেন, ‘প্রথমে নরসিংদী জেলা থেকে ২২ দিন বয়সের ২৮৩টি টার্কির বাচ্চা কিনে এনে নিজের পৈতৃক ভিটায় ১০ শতাংশ জমির ওপরে খামার শুরু করি।। এখান ছোট বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক টার্কি রয়েছে খামারে। ছয় মাস পর পর টার্কি ডিম দেয় আর ডিম থেকে এখন বাচ্চা উৎপাদন করছি। বর্তমানে আমার খামারে ১ দিনের বাচ্চা থেকে ৩ মাস বয়সের টার্কি রয়েছে।’

সোহরাবের টার্কি খামারসোহরাব আরও বলেন,  বর্তমানে বাজারে টার্কির একদিনের বাচ্চা ২৫০ টাকা, ১৫ দিন থেকে এক মাসের বাচ্চা ৫০০ টাকা এবং দুই মাস বয়সের বাচ্চা ১ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। এখান থেকে বিভিন্ন জেলার আগ্রহীরা বাচ্চা কিনে নিয়ে যায়। প্রতি মাসে বাচ্চা ও বড় মুরগি বিক্রি করি প্রায় দেড় লাখ টাকায়। বর্তমানে খামারের মুরগির খাবার ও শ্রমিক খরচ বাদে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো আয় হয়।’

পাংশার আরেক টার্কি পালনকারী মো. সাবু জানান, সোহরাব ভাইকে দেখে আগ্রহী হয়ে নিজের বাড়িতে ৫০টি টার্কি পালন শুরু করেছেন তিনি। এখন টার্কি পালন একটি লাভজনক ব্যবসা ।

রাজবাড়ী জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু বকর বলেন, ‘আমি সোহরাব হোসেনের খামারটি পরিদর্শন করেছি। তিনি এখন সফল একজন টার্কি খামারি। বর্তমানে টার্কি একটি লাভজনক ব্যবসা। তাই এখন অনেক বেকার যুবক টার্কি পালন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। টার্কি পালনে এখন জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।’