রাজধানীর কদমতলী থানার একটি মাদক মামলায় কারাগারে বন্দি ছেলে আনার হোসেনের জন্য মা আনোয়ারা বেগম গরুর গোশত, খিচুড়ি ও সেমাই রান্না করে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কদমতলী থানা পুলিশের একটি মিথ্যা মামলায় আমার ছেলে এই কারাগারে বন্দি আছে। ছেলেকে রেখে কীভাবে ঈদের দিন আমি বাড়িতে ভালো খাবার খাই। ’
যাত্রাবাড়ী থানার মাদক মামলায় কারাগারে বন্দি স্বামী মো. সুমনের জন্য দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আসা মুন্নি বেগম শুঁটকির ভর্তা, কালিজিরার ভর্তা, গরুর গোশত ভুনা ও সেমাই রান্না করে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘স্বামীর জন্য খাবারগুলো পাঠিয়ে দিতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।’
৯ মাস যাবত কারাগারে আটক ছেলে নাদিমের জন্য সেমাই, পোলাও, পরাটা ও গরুর গোশত নিয়ে এসেছেন বাবা সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন মন মানে না। তাই ছেলের জন্য এসব খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছি।’
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বন্দিদের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নামে প্রিজোনার ক্যাশের মাধ্যমে টাকাও পাঠান স্বজনরা।
প্রিজোনার ক্যাশের দায়িত্বরত কারারক্ষী নাজমুল হুদা বলেন, ‘কারাগারের ভেতর একটি ক্যান্টিন আছে। স্বজনরা টাকা পাঠালে সে টাকা বন্দিদের হাতে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বন্দিরা ক্যান্টিনে কোন ওখাবার খেলে তাদের স্বজনদের পাঠানো টাকা থেকে কাটা হয়। আজকে প্রিজোনার ক্যাশের মাধ্যমে বন্দিদের স্বজনেরা প্রায় ১ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন।’
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সবাই কোরবানির ঈদ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দর্শনার্থী ও স্বজনদের আগমন অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু কম। আশা করছি বৃহস্পতিবার বাড়বে।’